৭৫ লাখ টাকা কাবিনে রাজি না হওয়ায় যুবককে হয়রানির অভিযোগ

পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিয়ের কাবিনে ৭৫ লাখ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তামিম নামে এক যুবককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। এতে তারা হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যশোর শহরের পূর্ববারান্দী মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা লোকমান হোসেন।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লোকমান হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান, তার ছেলে তামিমের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ফারজানা খাতুন ঐশীর পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা চলছিল। প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও মেয়ের বাবার ৭৫ লাখ টাকার কাবিনের দাবি এবং মেয়ের চরিত্র নিয়ে বিতর্কিত তথ্য পাওয়ায় তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

লোকমান হোসেন অভিযোগ করেন, এরপর থেকেই আনোয়ার হোসেন, তার মেয়ে ও ভাইসহ কয়েকজন প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তামিমের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এখন পর্যন্ত তার ছেলের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোর তদন্ত ছাড়াই পুলিশ রেকর্ড করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আনোয়ার হোসেনের আত্মীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ এবং শহরের রেল রোড এলাকার এক রেস্টুরেন্টে ডেকে হুমকি দিয়েছেন।

লোকমান হোসেন জানান, তার ছেলে মানহানির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন। কিন্তু আনোয়ার গং আদালতে হাজির না হয়ে নানা কৌশলে সময়ক্ষেপণ করছেন এবং নতুন করে তামিমকে ফাঁসাতে তাদের বাড়িতে ডেকে নাটক সাজাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তামিমের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে শ্লীতহানির অভিযোগ আনা হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একইভাবে ফেসবুকে ছবি প্রকাশের অভিযোগও ভিত্তিহীন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, লোকমান হোসেন মিথ্যাচার করেছেন। তিনি কাবিনের টাকার অঙ্কের কথা বেমালুম অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটকের মাধ্যমে আমার মেয়ের সাথে তামিমের বিয়ের কথা পাকা হয়। কিন্তু পরে আমরা জানতে পারি, ছেলের স্বভাব চরিত্র ভালো না। সে কারণে আমরা পরে রাজি হইনি।

আনোয়ার হোসেন আরও জানান, তিনি ১০ লাখ টাকা কাবিনে মেয়েকে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। এখন এই বিয়েটা ভাঙতে তারা নানা ধরনের ছবি, কথোপকথনের স্ক্রিনশট ইত্যাদি পাঠাচ্ছেন এবং মেয়ের বিয়ে এখনও টিকে আছে কি না খোঁজ নিচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে তিনি চেনেন না। তাকে দিয়ে মিথ্যা মামলার কাজ করিয়ে নিতে পারেননি বলেই উল্টো তাকে দুষছেন।