আসামি ধরতে জেলের বেশ পুলিশের 

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাতের অন্ধকারে অ্যাসিড হামলা চালিয়ে পলাতক এক আসামিকে ধরতে এবার জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করলো ঝিকরগাছা থানা পুলিশ। এক নাটকীয় ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর অবশেষে নড়াইল জেলার এক সুবিশাল বিলের গভীর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আলোচিত অ্যাসিড নিক্ষেপকারী জসীমকে (৪০)।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় আট মাস আগে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ভিকটিম তার চার বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। প্রতিবেশী জসীম, যিনি পেঁপে বাগানে দিনমজুরের কাজ করতেন, ভিকটিমকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হতেই তার আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। গত ১০ জুন জসীম তার পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে গেলেও, ভিকটিমকে মোবাইল ফোনে ক্রমাগত হয়রানি করতে থাকে এবং অশালীন মন্তব্য করে।

সেই বীভৎস ঘটনা ঘটে গত ৩ জুলাই আনুমানিক রাত আটটায়। ভিকটিমের বাড়ির পুরুষ সদস্যরা স্থানীয় বাজারে গেলে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে জসীম। অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে সে বাড়ির জানালার পাশে অবস্থান নেয়। ঘরের ভেতরে তখন ভিকটিম, তার অবুঝ শিশু সন্তান, তার মা এবং আট বছরের ছোট ভাই ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই জসীম নির্মমভাবে ভিকটিমকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। অ্যাসিডের ঝলসে যাওয়ার যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে ওঠে ভিকটিম, তার মা এবং ছোট ভাই। জানালার দিকে তাকিয়েই তারা দেখতে পান, জসীম দাঁড়িয়ে আছে এবং মুহূর্তেই অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় জসীমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে, ঝিকরগাছা থানা পুলিশসহ একাধিক টিম আসামিকে ধরতে মাঠে নামে।

তদন্ত চলাকালীন গত ১৫ জুলাই পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে যে জসীম নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানাধীন আমাদাহ নামক স্থানে লুকিয়ে আছে। সেখানে অভিযান চালানো হলেও ধূর্ত জসীম বারবার তার অবস্থান পরিবর্তন করে পুলিশকে ফাঁকি দিচ্ছিল। অবশেষে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে জানা যায়, সে লোহাগড়া, নড়াইল সদর ও কালিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত কামাল প্রতাপ নামক এক বিশাল বিলের গভীরে আত্মগোপন করে আছে।

গতকাল ১৭ জুলাই বিকেলে, এসআই তাপসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি সাহসী দল এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করে। তারা সাধারণ জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করে বিলের মাঝখানে পৌঁছায়। পুলিশের আকস্মিক উপস্থিতি টের পেয়ে জসীম দিশেহারা হয়ে পানিতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু ততক্ষণে এসআই তাপসও দ্রুত পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। পানির মধ্যেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। দীর্ঘক্ষণ লড়াইয়ের পর অবশেষে পুলিশ এই ভয়ঙ্কর আসামিকে কাবু করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসীম তার জঘন্য অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তাকে ইতোমধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।