চৌগাছায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল গ্রামবাসীর

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় অবিরাম বৃষ্টিতে কপোতাক্ষ নদের দুই পাড়ের অনেক ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। নদ পাড়ের বাসিন্দারাও আছেন ঝুঁকিতে। পানি বেড়ে যাওয়ায় নদের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো এখন পানির নিচে। সাঁকো তলিয়ে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন মানুষ। দ্রুত বাঁশের সাঁকোটি মেরামতের দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখান গ্রামে পীর বলুহ দেওয়ান (র.) এর রওজা শরীফের ঠিক পূর্বপাশ দিয়ে প্রবহমান কপোতাক্ষ নদ। নদের দুই পাড়ের গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে এক সময় খেয়া পারাপার হতো। আধুনিক সভ্যতায় সেই খেয়া উঠে ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত হয় একটি সাঁকো, স্বস্তি ফিরে এলাকাবাসীর মধ্যে। পরবর্তিতে নদ খননের পর লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে আবারও দুর্ভোগে পড়েছেন কপোতাক্ষ পাড়ের বাসিন্দারা। প্রতি দিনই নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেকারণে এখন সাঁকোর ওপর উঠে গেছে পানি। নিচের অনেক বাঁশ উঠে ভেসে যাচ্ছে পানিতে। এমন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই পাড়ের মানুষ চলাচল করছেন। যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশংকা করছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পানির নিচে তলিয়ে থাকা সাঁকোর ওপর দিয়ে সব বয়সের মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে চলাচল করছেন। শুধু যে সাঁকো পানিতে তলিয়ে আছে এমনটি না, নদের পূর্বপাড়ে নিয়ামতপুর তালপট্টি অংশের সাঁকো থেকে নামা স্থানটি ভেঙে নদগর্ভে মিশে গেছে। চরম এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেখানে।

কথা হয় নদ পাড়ের বাসিন্দা আব্দুল আলিমের সাথে। তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা নিয়মিত নদ পার হচ্ছি। ব্যবসায়ী মো. মিঠু, আজিজুর রহমান, আব্দুর রহমান বলেন, সাঁকোটি নদের দুই পাড়ের মানুষের মাঝে সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু একটানা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে সাঁকোর বাঁশ কাঠ। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থী, মিম খাতুন, আশরাফুল ইসলাম বলে, পনিতে ডুবে গেছে সাঁকো, আমরা ভয় নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছি। কৃষক জয়নাল আবেদিন বলেন, নদের পাড়ে অর্থাৎ নিয়ামতপুর তালপট্টিতে অনেক ফসলি জমি আছে যা চাষাবাদে নিয়মিত এই সাঁকো পার হতে হয়। পারাপারে কি জানি কখন দুর্ঘটনায় পড়তে হয়।

সাঁকো নির্মাণে অর্থদাতা লোকমান হোসেন বলেন, কপোতাক্ষের পূর্বপাড়ে নিয়ামতপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম আছে যারা প্রতিনিয়ত নদ পার হয়ে হাজরাখানাসহ এ অঞ্চলে আসেন। নদ খননের সময় চলাচলের একটি পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু খননকাজ শেষ হওয়ার পর দুই পারের মানুষের নদ পারাপার সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আমি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লালের সহযোগিতা নিয়ে পুনরায় সাঁকো নির্মাণ করি। সম্প্রতি বৃষ্টিতে সাঁকো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পারাপারে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। এই সময়ে সকলকে বেশি সতর্ক হয়ে নদ পার হতে হবে।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুজ্জামান মিলন বলেন, বৃষ্টিতে সাঁকো তলিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে সকলকে সাথে নিয়ে দ্রুত এটি মেরামত করা হবে।

ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বিএম বাবুল আক্তার বলেন, বৃষ্টিতে সাঁকো পারাপারে বেড়েছে ঝুঁকি, অনেক স্থানের বাঁশ পানিতে ভসে গেছে। সরকারি সহযোগিতায় এটি দ্রুত মেরামত করা দরকার।

উপজেলা প্রকৌশলী রিসায়াত ইমতিয়াজ বলেন, সাঁকো স্থানে একটি মিনি ব্রিজ নির্মাণের জন্য বেশ আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা আছে। বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাঁকোর বিষয়ে তিনি ইউএনও বরাবর একটি আবেদন করার কথা বলেন।