ব্যবহারিক নম্বর যোগ না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার হাসাদাহ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬৩ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য

0

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ব্যবহারিক নম্বর যোগ না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগের ৬৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে এর জন্য দায়ী করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় হাসাদাহ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ৬৩ জন এবং অনিয়মিত ২৫ জনসহ মোট ৮৮ জন শিক্ষার্থী ভোকেশনাল বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করে। গত বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাকশন বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৬৩ জনই অকৃতকার্য হয়েছে।

অর্ক নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব বিষয়ে ভালো নম্বর পেয়েছি। ভালো পরীক্ষা দিয়েও কেন ব্যবহারিকে অকৃতকার্য হলাম তা জানি না। এটা তদন্ত করে সমাধান করা হোক।”

মিম নামের আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “ব্যবহারিকের নম্বর পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের হাত দিয়েই দেওয়া হয়। নম্বর মার্কশিটে যোগ না হওয়ায় আমরা সবাই অকৃতকার্য হয়েছি। কেন এমনটা হলো, এজন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দায়ী। তারা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এমনটি হতো না।”

সিফাত নামের অপর এক শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সম্পূর্ণ দায়ী করে বলেন, “আমরা সকলেই আমাদের ব্যবহারিক খাতা সময় মতো বিদ্যালয়ে জমা দিয়েছি। এটার দায় সম্পূর্ণ শিক্ষকদের। ওনাদের ব্যর্থতার দায় আমরা কেন নেব? এটার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

ভোকেশনাল বিভাগের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জানান, তারা শিক্ষার্থীদের নম্বর যথাসময় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন। কিন্তু বোর্ড বলছে তারা নম্বর পাননি এবং কারিগরি ত্রুটির কথা বলছে।

বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে বোর্ডে যেতে হবে এবং অনলাইনে না হওয়ায় ২৫০০ টাকা জরিমানা দিয়ে ম্যানুয়ালি এটি জমা দিতে হবে।

হাসাদাহ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, তারা বোর্ডে যোগাযোগ করেছেন এবং রবিবারের (১৩ জুলাই) মধ্যে ফলাফলের সমাধান হওয়ার আশ্বাস পেলেও তা হয়নি। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে আরও এক মাস সময় চেয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে এবং ৬৩ জন ছাত্র সমস্যায় পড়েছে। এ নিয়ে ঢাকা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাথে কথা বলেছেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা ।। জীবননগর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বার বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেছেন। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্র্যাকটিক্যালে সত্যিই ফেল এসেছে, নাকি নম্বর এন্ট্রি হয়নি তা জানার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যদি নম্বর এন্ট্রির সমস্যা হয়, তবে সেটা সমাধানযোগ্য। তবে প্র্যাকটিক্যাল ফেল হলে ফলাফলে পরিবর্তন আসবে না।