ভরা মৌসুমেও ইলিশের সংকট, দাম বেড়েছে অন্যান্য মাছের

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ ভরা মৌসুমেও ইলিশের সংকটে যশোরে অন্যান্য মাছের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকহারে। এদিকে অবিরাম বর্ষণে বেশ কিছু সবজির দাম আরও বেড়েছে। কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে চারগুণ। বেড়েছে খামারের মুরগির দাম। রোববার সকালে যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

ভরা মৌসুমে আষাঢ়ের শেষেও ইলিশ মাছের দেখা মিলছে না। যশোরে ইলিশ মাছের সরবরাহ কম থাকায় অন্যান্য মাছের দাম অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটাও এখন ইলিশশূন্য। সেখানকার আড়তদার বাবুরাম কর্মকার রোববার লোকসমাজকে জানান,তাদের ঘাটে ইলিশ নেই। নদী ও সাগরে জাল ফেলেও কাঙ্খিত ইলিশ পাচ্ছে না জেলেরা। তবে তিনি আশার কথা শোনান, আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে ইলিশের আমদানি হয়ে যাবে।

যশোর বড় বাজার পৌর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতা রিয়াজুল আলম রোকন জানান, সাধারণত এই সময় বাজারে প্রচুর ইলিশ মাছের সরবরাহ থাকে। এবার ইলিশের ভরা মৌসুমেও সরবরাহ না বাড়ায় বাজারে অন্যান্য মাছের চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় এসব মাছের সরবরাহ কম থাকায় দামও বেশি।

রোববার বড় বাজার মাছবাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৬শ থেকে ২৮শ টাকায়, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা। এক কেজি ওজনের রুই বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ২৮০-৩০০ টাকা, ২ কেজি রুই ২০০-৪৫০ টাকা, পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০-২৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৮০-২০০ টাকা, বাইম ৮০০-১০০০ টাকা, বাগদা ৬৫০-১২০০ টাকা, গলদা ৮০০-১৪০০ টাকা।

এদিকে কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে বেশ কিছু সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে বেগুনের কেজিতে এ সপ্তাহে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, শসার কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, বরবটির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, ঝিঙের কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। তাছাড়া অন্যান্য সবজির খুব একটা ক্ষতি না হওয়ায় সেগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বড় বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আরিফ ভাণ্ডারের অন্যতম স্বত্বাধিকারী শাহাবুদ্দিন মাতব্বর জানান, কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে কিছু সবজির ক্ষতি হয়েছে। তবে এ সময় ভারী বর্ষণ না হওয়ায় সার্বিকভাবে সবজির ক্ষেতে তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী বিকাশ সাহা জানান, এই কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কাঁচা মরিচের। পানিতে অধিকাংশ মরিচের গাছ মরে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে চারগুণ। তিনি রোববার কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি করেছেন ১৪০ টাকা।

বাজারে খামারের ব্রয়লার মুরগির কেজিতে এ সপ্তাহে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা। খামারের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৪০ টাকা, কাঠেরপুলে গরুর মাংস কিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা।