নওয়াপাড়ায় বালির ড্যাম্পের কারণে নষ্টে হচ্ছে যশোর-খুলনা মহাসড়ক

0

নজরুল ইসলাম মল্লিক, অভয়নগর (যশোর) ॥ বালির ড্যাম্পের কারণে নষ্ট হচ্ছে যশোর-খুলনা মহাসড়ক। রাস্তার ওপর বালি জমে বৃষ্টির পানিতে খানখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর -খুলনা মহাসড়কের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া থেকে যশোর শহরের পালবাড়ী মোড় পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার দৈঘ্য সংস্কার কাজ ২০১৭ সাল থেকে চলমান রয়েছে। কয়েক দফা কার্পেটিং করা হলেও তা টিকেনি। কিছু দিনের মধ্যে তা নষ্ট হয়ে খানাখন্দে পরিণত হয়। বর্তমানে এ সড়কের বিভিন্ন অংশে এ অবস্থা তৈরি হয়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতি নিয়ত দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। বিশেষ করে আলীপুর থেকে প্রেমবাগ উড়োতলা পর্যন্ত এই অংশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এই অংশে সড়কের গা ঘেঁষে বালি ব্যবসায়ীদের ৫ থেকে ৬টি বৃহত্তর বালির ড্যাম গড়ে উঠেছে। এই ড্যাম্পের কারণে সড়কে জমে থাকে পানি। পানি জমে থাকায় কার্পেটিং করা সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া এসব বালি ড্যাম্প থেকে নেওয়ার জন্য ট্রাকগুলো দীর্ঘ সময় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। অপর দিকে প্রচুর পরিমাণ বালি সড়কের ওপর পড়ে থাকে সারা বছর।

একদিকে এলাকার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক অন্যদিকে এই অংশে দুর্ঘটনা ঘটে অহরহ। এদিকে মংলা, নওয়াপাড়া নৌ বন্দর, বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্য এখান থেকে এই সড়ক দিয়ে পরিবহনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়ে থাকে। বিশেষ করে নওয়াপাড়া থেকে বিভিন্ন প্রকার সরকারি ও বেসরকারি সার উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। সড়কের বেহাল দশার কারণে সার সরবরাহ স্থবির হয়ে আছে। ট্রাক চালকরা নওয়াপাড়া থেকে সারসহ সকল পণ্য পরিবহনে অনীহা প্রকাশ করেছে।

তাছাড়া এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রায় ১০টি জেলার মানুষ পরিবহনের মাধ্যমে চলাচল করে। সড়কের বেহাল দশার কারণে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা পরিবহনগুলো চুকনগর-মনিরামপুর হয়ে চলাচল করছে। সড়কের এই দুরবস্থা দীর্ঘ বছরের হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে।

সড়কের পাশে বালি ড্যাম্পিং করে রাখার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, এদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভয়নগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ প্রতিম শীল জানান, আমি দেখেছি। এদের বিরুদ্ধে আইনের মধ্যে থেকে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নেওয়া হবে।