৬ দিন পর চুয়াডাঙ্গায় স্বর্ণ চোরাকারবারী ইব্রাহীমের মরদেহ হস্তান্তর

0

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা ॥ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত স্বর্ণ চোরাকারবারী ইব্রাহীম হোসেনের মরদেহ ছয় দিন পর মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাত ৮টার পর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক দর্শনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও বিএসএফের পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আসিব মাহমুদ জানান, দর্শনা সীমান্তের ৭৬ নম্বর পিলারের কাছে বিজিবি-৬ ব্যাটালিয়ন দর্শনা কোম্পানি কমান্ডার এবং ভারতের ৩২ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের গেদে কোম্পানি কমান্ড্যান্টের উপস্থিতিতে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভারতের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর থানা পুলিশ মরদেহটি দর্শনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর নিশ্চিত করেছেন যে, যথাযথ আইন ও নিয়ম মেনেই নিহত ইব্রাহীমের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সুলতানপুর সীমান্তের অপর পাশে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে ইব্রাহীম হোসেন বাবু (৩০) নিহত হন। নিহত ইব্রাহীম একই উপজেলার ঝাঁঝাডাঙ্গা গ্রামের মাদ্রাসাপাড়ার নুর ইসলামের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও তার বাবা নুর ইসলাম জানান, ইব্রাহীম ওই দিন দুপুরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে সীমান্ত সংলগ্ন গালার মাঠে যান। এ সময় ভারতের নদীয়া জেলার গেদে ক্যাম্পের বিএসএফ ৭৯ নম্বর খুঁটির কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে বিএসএফ সদস্যরা ইব্রাহীমের মরদেহ ভারতে নিয়ে গেছে। বিভিন্ন সীমান্ত সূত্র থেকে জানা গিয়েছিল, ইব্রাহীম হোসেন বাবুর মরদেহ ভারতের কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর হাসপাতালের মর্গে ছিল।

ঘটনার দিন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, তিনি ৩২-বিএসএফের কমান্ড্যান্ট সুজিত কুমারকে ফোন করলে তিনি জানান, ওই দিন দুপুরে কয়েকজন বাংলাদেশী স্বর্ণ পাচারকারী সীমান্তের ৭৯ নম্বর মেইন পিলারের ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফের টহলদলের ওপর তারা আক্রমণ করলে বিএসএফ তাদের ধাওয়া করে, এবং একজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলেও বিএসএফ জানিয়েছিল। তবে, কোনো বাংলাদেশী নিহত হওয়ার বিষয়টি বিএসএফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সময় বিজিবিকে নিশ্চিত করা হয়নি।