ঢাকা থেকে আসার পথে বাসের মধ্যে মৃত্যু গৃহবধূর

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এক সপ্তাহ আগে কোরবানির ৫ কেজি মাংস নিয়ে গৃহবধু সাবিহা ঢাকায় স্বামী ও সন্তানদের কাছে গিয়েছিলেন। শিনিবার হঠাৎ ফিরছিলেন গ্রামে। ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে সাবিহা খাতুন (৩৫) গাড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাবিহার ভাই অভিযোগ করেছেন, তিনি স্বামীর হাতে নিয়মিত নির্যাতিত হতেন। তার এই আকস্মিক বাড়ি ফেরা ও মৃত্যু পেছনে কোন রহস্য থাকতে পারে। চিকিৎসকরা তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন।

সাবিহা খাতুন যশোরের অভয়নগর উপজেলার মসরহাটি গ্রামের হাসানুজ্জামান চন্টু ওরফে আকাশের স্ত্রী। তার স্বামী ও দুই ছেলে মিরপুরে থাকেন। সাবিহা সেখানে একটি প্রাইভেট কোচিংয়ে শিক্ষকতা করতেন।

গতকাল শনিবার সকালে মহাকাল ভাঙ্গা গেট এলাকার আব্দুল আলীমের মেয়ে আশা খাতুন ওরফে ঋতুর সাথে সাবিহা নড়াইল এক্সপ্রেস লিমিটেডের একটি বাসে করে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাসের মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুপুর ১২টার দিকে বাসের চালক সাবিহা ও আশা খাতুনকে যশোর মনিহার বাস কাউন্টারের সামনে নামিয়ে দেন। এরপর আশা খাতুন রিকশাযোগে সাবিহাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকিরুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু সন্দেহে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আশা খাতুন ঋতু আকাশের বাসায় থাকতেন। তিনি হাসপাতালের মৃত খাতায় সাবিহার স্বামীর ঠিকানা ‘নিউমার্কেট, সদর, যশোর’ উলে¬খ করেছেন। আশা খাতুন নিজের ঠিকানা দিয়েছেন মিরপুর, ঢাকা।
মৃত সাবিহার ভাই মীর আবু তাজিব ফারুক অভিযোগ করেন, সাবিহার স্বামী আকাশ কখনোই তার সাথে ভালো আচরণ করেননি। সবসময় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ঠিকমতো খাবারও দিতেন না। শুধুমাত্র দুই ছেলে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সাবিহা এই সংসার টিকিয়ে রেখেছিলেন। ফারুক কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, ‘ঢাকায় গেল ভালো মানুষ, আর লাশ হয়ে ফিরে এলো!’ তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

ঢাকা থেকে যশোরে আসার পথে ফেরিঘাটে সাবিহা বুট কিনে খেয়েছিলেন বলেও তার ভাই উলেখ করেছেন। এতে কোনো বিষাক্ত পদার্থ ছিল কিনা, তা তিনি নিশ্চিত নন।

এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসআই সাইফুল ইসলাম গতকাল সাবিহার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করছেন। সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।