মনিরামপুরে বালিয়ার খালে ঘের নির্মাণচেষ্টার অভিযোগ

0

মজনুর রহমান,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুরে বালিয়ার খালের মোহনায় রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে মাছের ঘের নির্মাণে চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘের নির্মাণ করা হলে পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি বিলসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘের নির্মাণের চেষ্টার প্রতিবাদ করছেন স্থানীয়রা।

কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হেলাঞ্চী, হানুয়ার, খেদাপাড়া, জালালপুর, গালদা, খড়িঞ্চী, রোহিতা, দিঘিরপাড়, হরিহরনগর, কোদলাপাড়া, তেঁতুিলয়া, বসন্তপুর, গাংগুলিয়াসহ ২০টি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্যে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হেলাঞ্চী-হানুয়ারের মাঝ দিয়ে বালিয়ার খাল খননের উদ্বোধন করেন।

খেদাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ অনেকেই জানান, খননের পর পশ্চিমাঞ্চের ২০ টি বিলের পানি বালিয়ার খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কপোতাক্ষ নদে পড়ে। সেই থেকে ২০ বিলে কৃষকরা কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন করে আসছেন।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে উপজেলার মশ্বিমনগর এলাকার ব্যবসায়ী বিমল বিশ্¦াস, হানুয়ারের রবিউল ইসলামসহ তিন ব্যক্তির যৌথ মালিকানায় বালিয়ার খালের মোহনায় শতাধিক বিঘা জমি লিজ নিয়ে গত ১০ মে মাছের ঘের নির্মাণ শুরু করেন। ফসলি জমিতে ঘের নির্মাণ করতে হলে উপজেলা ভূমি ও পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। তার ওপর বালিয়ার খালের মোহনায় ঘের নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে ২০ বিলের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হবে। ফলে বিল ও আশপাশের অর্ধশতাধিক গ্রামে দেখা দেবে জলাবদ্ধতার। যে কারণে এলাকাবাসী এ ঘের নির্মাণে বাধ সাধেন।

এলাকার জাহিদুল ইসলাম, সোহান, আশরাফ হোসেন, মোদাচ্ছের আলী, এরশাদ আলীসহ অধিকাংশ কৃষকের অভিযোগ ঘের নির্মাণে বাধা দেওয়ার পর রাতের অন্ধকারে ৬/৭ টি স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা শুরু হয়।

স্কুল শিক্ষক শামছুজ্জামান জানান, খালের গা ঘেঁষে গত বছর ছোট একটি ঘের নির্মাণ করেন এলাকার বুলবুল ও আব্দুল লতিফ নামে দুই ব্যবসায়ী।

খেদাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিবর রহমান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহ জানান, বিমল বিশ্বাসের নেতৃত্বে খালের মোহনায় শতাধিক বিঘা জমিতে প্রশাসনের কোন অনুমতি ছাড়াই ঘের নির্মাণচেষ্টার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে।

ঝাপা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান,ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাদেরকে ঘের নির্মাণ করতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তারা কোন কর্ণপাত করেননি। ফলে আসলাম হোসেন ১৭ মে জাকাত আলী, রুহুল আমিন, সুবোধ চন্দ্র, কেতু চন্দ্র, অনন্ত লাল, আব্দুল রহমান, সরোয়ার হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ করেন। কিন্তু এ ব্যাপারে পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

মনিরামপুর থানায় সদ্য যোগদানকারী অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম খান বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বুধবার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার(ভূমি) নিয়াজ মাখদুম ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী খালপাড়ে অবস্থান নিয়ে যেকোন মূল্যে ঘের খনন বন্ধ করার দাবি জানান।

ভারপ্রাপ্ত ইউএনও নিয়াজ মাখদুম বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘের নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাইনি। জনস্বার্থে এ ঘের নির্মাণ বন্ধ করতে করণীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া নির্মিত ঘের মাটি দিয়ে ভরাট করতে বৃহস্পতিবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঘের মালিক বিমল বিশ্বাস বলেন, বিনাঅনুমতিতে ঘের নির্মাণ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর বাধার মুখে অনেক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছি। এখন আবার মাটি ভরাট করতে হলে আমি অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবো।