ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা

মাহির সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাফার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ ও ভিডিও ফাঁসের হুমকির অভিযোগটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী নিজেই।

রোববার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগকারী কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা মাহিনুর আক্তার মাহি বলেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিলেন। বিএম আকাশ ও মঞ্জুরুল হক সুমন নামে দুই ব্যক্তির চাপে তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে দাবি করেন। একই সাথে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কিছু সংকট তৈরি হলেও সেটি মীমাংসা হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সাইফুল ইসলাম রাফার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ মে সন্ধ্যায় রাফাকে ‘সারপ্রাইজ’ দিতে তিনি হঠাৎ যশোরে আসেন। সন্ধ্যা সাতটা থেকে আটটার মধ্যে তিনি মনিহার এলাকায় পৌঁছান এবং রাফার বাসায় যান। তবে তিনি আগে থেকে রাফাকে কিছু জানাননি। বিষয়টি রাফা মেনে নিতে পারেনি।

এরপর তিনি বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তাকে ফোন করে সুমন নামে এক যুবক। তাকে জানানো হয়, রাফা তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করতে পারে। তাকে ধর্মতলায় একটি বাড়িতে নিয়ে যেতে চান। একই সাথে যশোরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম আকাশের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। অন্যথায় নানা হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। তিনি ভয়ে কোতোয়ালি থানায় আশ্রয় নেন। এরপর বিএম আকাশ ও সুমন তার সাথে কথা বলেন। বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে রাফার বিরুদ্ধে মামলা করাতে বাধ্য করেন তারা দুজন। কোতোয়ালি থানা পুলিশও তাদের সাথে যোগ দেন। এক পর্যায়ে চাপের মুখে পড়ে তিনি রাফার বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম আকাশ বলেন, তিনি দুই দিন যশোরে ছিলেন না। এ বিষয়ে সরাসরি দেখাও হয়নি। মূলত তিনি জানতে পারেন, একজন নারী সমস্যায় পড়েছেন। তিনি সহযোগিতা চান। যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করেছেন। তবে মামলা করতে বাধ্য করা হয়েছে, এটা মিথ্যা।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো মহল মিথ্যা বলছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।