চৌগাছায় দুই সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর)॥ চৌগাছায় দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের যাহাতব মুন্সি মোড়ের নিজ বাসা থেকে ওই নারীর দেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর তার স্বামী শনিবার রাত হতেই পলাতক রয়েছেন।

থানা পুলিশ ও মৃতের স্বজনরা জানান, যাহাতক মুন্সী মোড়ের বাসিন্দা হবিবর রহমানের মেয়ে জেসমিন আক্তারের (৩০) সাথে ঝিকরগাছা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের ফরিদ গাজীর ছেলে মাসুদ রানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাসুদ রানা স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই ঘর জামাই থাকতেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের দু সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে জিহাদ (১১) ও মেয়ে জুঁই খাতুন (৭)। অভাব- অনটন কাটাতে মাসুদ রানা দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। সেখানে ভালো আয় -রোজগার করতে না পারায় পুনরায় দেশে ফিরে আসেন।

শনিবার দিবাগত রাতে স্বামী-স্ত্রী একটি ঘটনা নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। স্বজনদের ধারণা, স্বামী তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

একাধিক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেসমিনের স্বামী মাসুদ রানার সাথে জেসমিনের ভাই রতনের স্ত্রী মেরিনা খাতুনের সাথে দীর্ঘদিনের পরকীয়া চলছিল। সম্প্রতি রতন সৌদি আরব গেলে সেই প্রেম আরও গাঢ় হয়। এই বিষয়টি নিয়ে জেসমিনের সাথে স্বামী মাসুদ রানার প্রায় ঝগড়া- বিবাদ লেগে থাকতো। ধারণা করা হচ্ছে শনিবার দিবাগত রাতে এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। রাতের শেষভাগে মাসুদ রানা তার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান।

জেসমিনের পিতা হবিবর রহমান জানান, মেয়ে- জামাইয়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। কিন্তু তাকে মেরে ফেলবে এটি আমরা কখনো বুঝিনি। আমি মনে করছি, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাটি খুব গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে এটি হত্যা, না আত্মহত্যা।