বোরো সংগ্রহ : সরকারের কম দামে আগ্রহ নেই কৃষকের

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে চলতি বোরো মৌসুমেও সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে সাড়া মিলছে না। গত আমন মৌসুমের মতোই এবারও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বর্তমান বাজারদরে ব্যাপক পার্থক্য এবং খাদ্য গুদামে ধান দেওয়া নিয়ে নানা ঝামেলার কারণে কৃষক বরাবরের মতোই আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে শুরুর থেকেই বোরো সংগ্রহ অভিযানের সফলতা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে খাদ্য বিভাগ।

গতবারের তুলনায় কেজিতে ৪ টাকা দাম বাড়িয়ে ধান সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হলেও তাতে কোনো সাড়া মিলছে না। সংগ্রহ শুরুর গত ১৬ দিনে জেলা খাদ্য বিভাগ ৫ শতাংশ ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি।

চলতি বোরো মৌসুমে যশোর জেলায় ৩০ হাজার ৯৮ মেট্রিক টন চাল এবং ১১ হাজার ২৩১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত ১৭ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এ অভিযান শুরু হলেও যশোরে শুরু হয়েছে গত ২৪ এপ্রিল থেকে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এ মৌসুমে প্রতিকেজি ধান ৩৪ টাকা এবং সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির পাশাপাশি ডিজিটাল অ্যাপসের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন কৃষকরা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে পর্যন্ত এ জেলায় ধান-চাল সংগ্রহের চিত্র একেবারেই হতাশাজনক। সংগ্রহের এই ১৬ দিনে চাল সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৯৮০ মেট্রিক টন এবং ধান সংগ্রহ হয়েছে ৩৩০ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৫ শতাংশেরও কম। অথচ শুরুর দিকেই ধান সংগ্রহ বেশি হওয়ার কথা ছিল।

যশোর অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চালকল মালিক ও বাঘারপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান জানান, ‘সরকার নির্ধারিত ধান ও চালের দামের চেয়ে বর্তমান বাজার দরে বিস্তর ফারাক রয়েছে। যে কারণে কৃষকরা খাদ্য গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নন। অধিকাংশ কৃষকই তাদের উৎপাদিত ধান বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে দিয়েছেন।’

প্রায় একই কথা বলেন ধান ও চাল ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামের সাথে বর্তমান বাজার দরের ব্যাপক পার্থক্য ছাড়াও খাদ্য গুদামে ধান দেওয়া নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। এর বড় কারণ হচ্ছে অধিকাংশ খাদ্য গুদাম উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে। এসব কারণে কৃষক বাড়তি খরচ দিয়ে আর খাদ্য গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে তারা কাছাকাছি বাজারে বেশি দামে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।’

যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সেফাউর রহমান বলেন, ‘সরকারিভাবে যে ধান ও চাল সংগ্রহ হয় এটি মূলত মোটাজাতের ধান। অথচ যশোরে কোথাও মোটা ধানের চাষ হয় না, সবাই চিকন ধানের চাষ করেন। যে কারণে প্রতি মৌসুমেই ধান সংগ্রহ নিয়ে আমাদেরকে সংকটে পড়তে হয়। বর্তমান যশোরের বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ধান বিক্রি হওয়ায় চাষিরা খাদ্য গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। তারপরও আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। ধান সংগ্রহে সাড়া না পেলেও শেষ পর্যন্ত চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবেন বলে তিনি জানান।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে যশোরে আমন ও বোরো মৌসুমের ধান ও চাল সংগ্রহে কোনো সফলতা নেই বললেই চলে। গত আমন মৌসুমে এ জেলায় ১৪ হাজার ২৪৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সেখানে অর্জন হয় মাত্র ৭ হাজার ৭০ মেট্রিক টন। অন্যদিকে ৯ হাজার ৭১৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ২২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হয়। আমন মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে জেলার ৬২টি মিল মালিককে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছিল খাদ্য বিভাগ।