যশোরে পেঁয়াজের বাজার অস্থির চালে কমলো আরও ৪ টাকা

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ স্থায়ী হচ্ছে না পেঁয়াজের বাজার, আবারও কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। বাজারে মোটামুটি সরবরাহ বেড়েছে নতুন নির্ধারিত দামের বোতলজাত সয়াবিন তেলের। এদিকে, এ সপ্তাহে সরু চালের দাম কেজিতে আরও ৪ টাকা কমেছে। কমেছে খামারের মুরগির দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে সবজি, গরু ও খাসির মাংসের দাম। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

গত দু তিন আগে কেজিতে ৫ টাকা কমে বড় বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ৫০ টাকা। রোববার থেকে কেজিতে আবারও ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। বড় বাজার এইচএমএম রোডের পাইকারি বিক্রেতা ‘নিতাই গৌর ভাণ্ডার’ এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী নিতাই সাহা জানান, অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে হাটে ক্রেতা সংকট ছিল। এ কারণে গত দু তিন দিন পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে এসেছিল। রোববার থেকে আবারও রাজবাড়ি ও ফরিদপুর জেলার হাটবাজারে মজুদদাররা দাম বেশি দিয়ে পেঁয়াজ কেনা শুরু করেছেন।

উল্লেখ্য, যশোরে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ আসে রাজবাড়ি ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন হাটবাজার থেকে। নিতাই সাহা আরও জানান, বর্তমানে ভাতি পেঁয়াজ পরিপূর্ণ পুষ্ট হয়েছে, রাখি করার উপযোগী হওয়ায় মজুদ বেড়ে গেছে। এ কারণে সামনের দিনগুলোতে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

এদিকে বড় বাজারে নতুন নির্ধারিত দামের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক হয়েছে। মেঘনা গ্রুপের ‘ফ্রেশ’ ব্র্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের যশোরের টেরিটরি ম্যানেজার রবিউল ইসলাম লোকসমাজকে জানান, তারা যশোরে ১৮৯ টাকা দরের ১লিটার, ৩৭৮ টাকা দরের ২লিটার ও ৯২২ টাকা দরের ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে সরবরাহ করেছেন।

বড় বাজারে বাজার করতে আসা শহরের ভোলা ট্যাংক রোডের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জহুরুল হক নতুন নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের বর্ধিত দামে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে কোম্পানিদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে পড়লে তারা একের পর এক অনৈতিক সুবিধা নিতে থাকবে।

গত সপ্তাহে বড় বাজারে নতুন বোরো ধানের সরু চালের কেজিতে ৪ টাকা দাম কমার পর এ সপ্তাহে প্রতি কেজিতে আরও ৪ টাকা কমেছে। রোববার বাংলামতি চাল বিক্রি হয়েছে মানভেদে প্রতি কেজি ৮৬ থেকে ৮৮ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ৯২ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬৪ থেকে ৬৮ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৬৪ থেকে ৭২ টাকা। তাছাড়া এ সপ্তাহে কেজিতে আরও ২ টাকা কমে রোববার বিআর-২৮ ধানের চাল বিক্রি হয়েছে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৬ থেকে ৬২ টাকা। বিআর-৬৩ চাল বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৭২ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭২ থেকে ৭৪ টাকা। স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। যশোর চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার সাহা জানান, বড় বাজারে এখন নতুন বোরো ধানের লোকাল (হাসকিং প্রসেস) চালের আমদানি বেশি। এমন ভাব থাকলে সামনের দিনগুলোতে চালের দাম আরও কমে আসবে।

অপরদিকে,ঈদুল ফিতরের পর থেকে ক্রেতা চাহিদা কমতে থাকায় ক্রমান্বয়ে খামারের মুরগির দাম কমে এসেছে। বড় বাজারের বিক্রেতা ইমরান হোসেন জানান, তিনি রোববার ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ২৩০ টাকা ও লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

বাজারে এ সপ্তাহেও অপরিবর্তিত রছে সবজি, ডিম, গরু ও খাসির মাংসের দাম। রোববার বড় বাজার এইচএমএম রোড়ের খুচরা বিক্রেতা নির্মল সাহা জানান, তিনি রোববার উচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, শসা মানভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁটা বেগুন ৮০ টাকা ও নজনে ডাটা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
বাজারে এ সপ্তাহেও খামারি মুরগির সাদা ডিম প্রতি পিস ১০ টাকা ও লাল ডিম প্রতি পিস সাড়ে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া কাঠেরপুলে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১২শ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।