স্কুল ছাত্র আব্দুল্লাহ হত্যা মামলায় কিশোর তাওহীদের ১০ বছরের আটকাদেশ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ খান হত্যায় জড়িত তাওহীদ কিশোর অপরাধী হওয়ায় ১০ বছরের আটকাদেশের রায় প্রদান করেছে আদালত। তবে ঘটনা সংঘটনের সময় কিশোর থাকলেও বর্তমানে সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

একই মামলায় অপর ৪ কিশোর অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. গোলাম কবির এই রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. আব্দুল লতিফ লতা।

১০ বছরের আটকাদেশপ্রাপ্ত তাওহীদ যশোর শহরের শংকরপুর আশ্রম রোডের মোহাম্মদ শাহীনের ছেলে।

খালাসপ্রাপ্তরা হলো বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক মোড়ের মৃত শেখ জাহিদ হাসানের ছেলে আকাশ, রেল রোডের রুহুল হাজীর বাড়ির ভাড়াটিয়া সেলিম হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা, চাঁচড়া রায়পাড়ার বিল্লালের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ রাহাতের ছেলে নয়ন ও আশ্রম মোড়ের আব্দুল গফ্ফারের ছেলে আশিকুল ইসলাম আশিক।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল্লাহ খান চাঁচড়া রায়পাড়ার মুরাদ খানের পালিত ছেলে ছিলেন। ২০১৯ সালে সে রেল রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। উল্লিখিত কিশোর অপরাধীরা আব্দুল্লাহ খানের পূর্ব পরিচিত। আধিপত্য নিয়ে তাদের সাথে তার দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো।

২০১৯ সালের ৬ জুন সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আকাশের কাছে মোবাইল ফোনে আব্দুল্লাহ খান জানতে চায় তারা কোথায় রয়েছে। জবাবে আকাশ তাকে জানায়, সেসহ তাওহীদ, মাসুদ রানা, নয়ন ও আশিক এয়ারপোর্ট রোডে ঘোরাঘুরি করছে। এ কথা শুনে তাওহীদকে সমালোচনা করে। যা শুনে তাওহীদ ক্ষুব্ধ হয়।

এরপর ইজিবাইকযোগে তাওহীদসহ উল্লিখিত কিশোর অপরাধীরা রেল রোডস্থ হোটেল শাহানাজের গলির ভেতর আসে। তারা সেখানে আব্দুল্লাহ খানকে দেখতে পেয়ে এলোপতাড়ি মারধর এবং তাওহীদ বাম পায়ের উরুতে ছুরিকাঘাত করে। এরপর তারা পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন আব্দুল্লাহ খানকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পালিত পিতা মুরাদ খান ৫ জন কিশোর অপরাধীর বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।

ওই মামলায় কিশোর অপরাধী তাওহীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের আটকাদেশ প্রদান করেন আদালতের বিচারক। অপর ৪ কিশোর অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।