ঝিকরগাছার আলোচিত ধর্ষণ মামলার ঘটনা নিয়ে গুঞ্জন

0

ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা॥ ঝিকরগাছার গদখালীতে আলোচিত ধর্ষণ ঘটনা নিয়ে বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য। এটি কি আসলেই ধর্ষণ, না অন্যকিছু তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা। সম্প্রতি ঝিকরগাছার গদখালীর ওই ঘটনায় ৪ যুবকের নামে ধর্ষণ মামলার বাদী বহু বিয়ে ও একাধিক ধর্ষণ মামলারও বাদী। একের পর এক বিতর্কিত ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের সুনাম ক্ষুণ্ন করা যেন তার পেশা।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মাছ ক্যাম্প এলাকায় গিয়ে ওই নারী সম্পর্কে জানা যায়। সেখানে বাড়ি ওই নারীর।

মাছ ক্যাম্পের পাশের বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, এর আগে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে মারুফ হোসেনের নামে তার মা মামলা করেন। মায়ের মৃত্যুর পর গ্রামবাসীর সহযোগিতায় টাকার বিনিময়ে তা মীমাংসা করা হয়। পরে ওই মামলার আসামি মারুফ হোসেন লোকলজ্জার ভয়ে মালয়েশিয়া চলে যান।

ওই নারী বলেন, প্রেমজ সম্পর্ক করে যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের সুজলপুর (জামতলা) গ্রামের ওলিয়ার রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়। সেখানে তাদের ২ বছরের একটি কন্যা শিশু রয়েছে। সম্প্রতি তিনি আগের স্বামী ওলিয়ার রহমানকে তালাক দিয়ে শার্শা উপজেলার গয়ড়া গ্রামের পান্না মিয়ার ছেলে পারভেজ হোসেন নামের এক যুবককে বিয়ে করেছেন।

গত রোববার ঝিকরগাছার গদখালীতে ৪ যুবকের সাথে চুক্তিতে যাওয়ার আগে সকালে বর্তমান স্বামীর বাড়ি গয়ড়া থেকে বের হন। এরপর বেনাপোল বড়আঁচড়া গ্রামের তার এক দূর সম্পর্কের খালা বাড়িতে যান। পরে দুপুরের দিকে গদখালী বাজারে আসেন। সেখানে পরিচয় হওয়া ৪ যুবকের সাথে চুক্তিতে অবৈধ মেলামেশা করতে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে বেনাপোলে সেই খালাকে তার পিত্রালয়ের হরিহরনগরের কেউ চেনেন না। ওই নারীর পিতা হরিহরনগরে ঘরজামাই। তার দাদাবাড়ি ঝিনাইদাহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় বলে জানান তিনি।

রিকশাচালক বড়ভাই বলেন, কথিত ধর্ষিত ওই নারী বাড়ির কারো কথা শোনেন না। ইচ্ছে মতো যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ান। নিজে নিজেই একাধিক বিয়ে করেছেন। তিনি ভাইদের অবাধ্য।

হরিহরনগর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান ও গ্রাম পুলিশ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ওই নারীর দুই ভাই যশোরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। তাদের মায়ের মৃত্যুর পর পিতাও অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। ওদের ছোট বোন নিজের ইচ্ছামত চলাফেরা করেন। ভাইদের কথা শোনেন না।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিকট প্রতিবেশী কয়েকজন নারী-পুরুষ বলেন, ওর নাম কুলছুম, সুমাইয়া নয়। যে নাম প্রচার হয়েছে তা আসল নাম নয়। তিনি সবার অবাধ্য।

গত ১৬ মার্চ ঝিকরগাছার গদখালীতে ৪ যুবকের সাথে চার হাজার টাকা চুক্তিতে অনৈতিক সম্পর্কে যান এক নারী। পরে ওই চার যুবক টাকা কম দেয়ায় পুলিশে ফোন দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পরে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ গদখালী থেকে ২ বছরের মেয়ে শিশুসহ ওই নারীকে উদ্ধার ও চার যুবককে আটক করে। তার দায়ের করা মামলায় তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝিকরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিদের আটক করা হয়েছিল। পরে ভিকটিমের করা মামলায় আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।