কেশবপুরে ডিজিটাল টেলিফোন একচেঞ্জ সেবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহক

0

জয়দেব চক্রবর্তী, কেশবপুর (যশোর) ॥ কেশবপুরে ৪০০ রেঞ্জের ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জটির বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা মাত্র ১১০। দুই যুগ আগে এক্সচেঞ্জটি ৪০০ রেঞ্জের সেবায় উত্তীর্ণ হলেও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তালমিলাতে ব্যর্থ হওয়ায় গ্রাহকরা এ অফিস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। যে কারণে সরকারি দফতর ছাড়া আর কোনো জনগণ টেলিফোন ব্যবহার করেন না।

জানা গেছে, কেশবপুর পৌর শহরের মাইকেল গেটের উত্তর পাশে ৮৫ শতক জমির ওপর কেশবপুর ডিজিটাল টেলিফোন একচেঞ্জটি অবস্থিত।

এ অফিসের প্রবেশ দ্বারের ছোট্ট একটি গেট রয়েছে। যা যশোর-সাতক্ষীরা রাস্তা থেকে ৪ ফুট নিচু হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে মাথা নিচু করে টেলিফোন একচেঞ্জ অফিসে প্রবেশ করতে হয়। মাত্র ২ জন কর্মচারী দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে একচেঞ্জটি। একজন অফিস সহকারী ও অন্যজন বার্তাবাহক। ২০০০ সালে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী প্রয়াত এএসএইচকে সাদেক এ একচেঞ্জটি ৩০০ রেঞ্জে উত্তীর্ণ করেন। ২০০১ সালে তা ৪০০ রেঞ্জে উত্তীর্ণ হয়।

একচেঞ্জটি ডিজিটাল হলেও আধুনিক কম্পিউটারের যুগে অফিসে নেই কোনো কম্পিউটার। হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি অফিস ও প্রাইভেট অফিস ছাড়া আর কেউ টেলিফোন সেবা গ্রহণ করেন না। বর্তমান স্মার্টফোন ও ব্রডব্যান্ড বা ওয়াইফাইয়ের যুগে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে ডিজিটাল টেলিফোন একচেঞ্জ। নতুন গ্রাহক সৃষ্টিতে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা না থাকায় বর্তমান এর গ্রাহক রয়েছে মাত্র ১১০ জন।

সরেজমিনে একচেঞ্জ অফিসে দেখা যায়, ঘরগুলো স্যাঁতস্যাঁতে, মাকড়শার জালে ভরা, পলেস্তরা খসে পড়ছে। অফিসের চারপাশ অপরিষ্কার, একটা এসি থাকলেও তা নষ্ট। গত বছরের বন্যায় অফিসটি তলিয়ে গেলেও করা হয়নি সংস্কার। অফিসের পেছন এখনও পানিবদ্ধ। গ্রাহকদের কোনো চাপ নেই বললেই চলে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর ডিজিটাল টেলিফোন একচেঞ্জের অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহান বলেন, মোবাইল ফোনের থেকে টেলিফোনে অনেক বেশি সুবিধাজনক। মাত্র ৩০০ টাকা জমা দিলেই পাওয়া যায় সংযোগ। মাসিক মিনিমাম চার্জ ১৭৩ টাকা। এরপরও টেলিফোন টু টেলিফোনে ফ্রি কথা বলা যায়। গ্রাহক বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। টেলিফোন ব্যবহারের সুবিধাগুলো গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে।