আগুনে সর্বস্ব হারিয়েছেন দিনমজুর আজগর আলী

0

প্রদীপ বিশ্বাস, বাঘারপাড়া (যশোর)॥ আজগর আলী মোল্লা (৪৩) পেশায় একজন দিনমজুর। সংসার চালাতে স্বামী-স্ত্রী মিলে অন্যের জমিতে কাজ করেন। তাও প্রতিদিন না। শারীরিক অসুস্থতার কারণে একদিন কাজ করে চার দিন বিশ্রাম নিতে হয় তাকে। পাঁচ শতক জমিতে খড়ের ছাউনি দিয়ে কোনোরকম ঘর তৈরি করে সেখানেই বসবাস করতেন দিনমজুর আজগর দম্পতি।

এ ছাড়া তার আর কোনো জমি নেই। গবাদিপশু ও হাঁস মুরগী বিক্রি করে টেনেটুনে সংসারের চাকা সচল রেখেছিলেন। কিন্তু গত শনিবারের আগুনে তার সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন তিনি নিঃস্ব। প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবারই এখন এদের ভরসা। উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের খলশী গ্রামে আবু বক্কার মোল্লার ছেলে দিনমজুর আজগর আলী।

সরেজমিনে সোমবার দুপুরে আজগর আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী রীনা খাতুন (৩৫)- কে নিয়ে পুড়ে যাওয়া আবর্জনা সরাচ্ছেন। এখনো সেখান থেকে পোড়াগন্ধ বেরোচ্ছে। কংক্রিটের খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে। তার মধ্যে পোড়া বাঁশ, খড়, বাঁশের ঝুড়ি এলামেলো ছড়ানো ছিটানো। পাশে বেশ কয়েকটি ফল ও মেহগনির গাছ পাতা পোড়া অবস্থায় নিথর দাঁড়িয়ে আছে। পোড়াবাড়িতে প্রতিবেশীদের ভিড়। তারা বিভিন্ন পরামর্শ ও সান্ত্বনা দিচ্ছেন আজগর আলীকে।

আজগর বলেন, স্ত্রীর আড়াই শতক ও নিজের নামের আড়াই শতক জমিতে একটি গোয়ালঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি খড়ি রাখার ঘর করেছিলেন। সবগুলোই কংক্রিটের খুঁটির ওপর খড়ের ছাউনি দেওয়া। স্বামী-স্ত্রী ৪শ ও ৩শ টাকার বিনিময়ে অন্যের জমিতে কাজ করেন। প্রতিদিন কাজ করতে পারেন না। গত ১০বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস ও কোমরে ব্যথার কারণে একদিন কাজ করে চারদিন বিশ্রাম নিতে হয়। সংসার চালাতে গবাদিপশু ও হাঁসমুরগীর ওপরও নির্ভর করতে হয় তাদের।

শনিবার (৮মার্চ) রাতে গোয়ালঘরে মশার কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এ দম্পতি। রাত সাড়ে দশটার দিকে প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে দেখেন সবঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুনে দুটো গরু (একটা এঁড়ে ও একটা বকনা), দুটো হাঁস, দুটো মুরগী মারা যায়। এছাড়াও নারিকেল, সফেদা, কামরাঙ্গা ও মেহগনি মিলে বারোটি গাছসহ চারটি ঘরও পুড়ে যায় আগুনে। পরনের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছু নেই।

দোহাকুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগুনে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোভন সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পক্ষে একটি আবেদন পেয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।