মশার উপদ্রবে নাজেহাল যশোর পৌরবাসী

0

আকরামুজ্জামান ॥ রমজানে যশোর শহরবাসীর ভোগান্তি বাড়াচ্ছে মশা। দিনে-রাতে সব সময়ই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশার উপদ্রব ভয়াবহ পর্যায়ে পৌছেছে। দিন ও রাতে মশার কামড়ে নাজেহাল শহরবাসী।

দিনের বেলায়ও অফিস কিংবা বাসা-বাড়িতে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। সন্ধ্যা হলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায় আরও কয়েক গুণ। মশা নিধনের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ ওষুধ ছিটালেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ শহরবাসীর।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন মশার প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে মশার উপদ্রব বাড়বে স্বাভাবিক। তারপরও মশা নিধনে ওষুধ স্প্রেসহ শহরের ড্রেন থেকে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা হচ্ছে।

ভুুক্তভোগীরা জানান ইফতার, সেহরি ও তারাবিহ’র সময় মশা যন্ত্রণা দিচ্ছে। কয়েল, স্প্রে ও ইলেকট্রিক ব্যাট ছাড়াও মশারি টানিয়েও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই শিলছে না। তাদের অভিযোগ পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত যে স্প্রে করা হচ্ছে তা যথেষ্ঠ নয়।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী, স্বজন, বৃদ্ধ ও শিশুরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও দিনের বেলায় মশার কামড়ে অতিষ্ট হয়ে পড়ছে।

যশোর শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে যশোর শহরে মশার উপদ্রব বেড়েছে। রাতে দিনে মশার কামড়ে ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। উঁচু ভবনেও মশার দাপট থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা বাসিন্দারা। আর নিচের তলার অবস্থাতো আরও শোচণীয়। দিনের বেলাতে কয়েল জ¦ালিয়ে থাকতে হচ্ছে।

একই এলাকার বাসিন্দা রজিবুল ইসলাম বলেন, তার এলাকায় চলতি মাসে দুই দফা ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। স্প্রে করার পর কিছু সময় মশার কম থাকলেও পরবর্তীতে একই অবস্থা বিরাজ করছে। অনেক সময় মশা নাকেমুখে ঢুকে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে দিনের বেলাতে মশারী টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে।

শহরের এম.এম কলেজ এলাকার মেসে বসবাসকারী শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান বলেন, মার্চের শুরু থেকেই মশার দাপট বেড়েছে। দিনে-রাতে কোনো সময়ই তারা নিস্তার পাচ্ছেনা মশার কামড় থেকে। তিনি বলেন, মশার এমন দাপট যে তারা ঘরে বসে একটু শান্তিতে পড়াশোনা করবে তার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেনা।

শুধু বাসা-বাড়ি নয়, শহরের অফিস-আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিকেও মশার কামড়ে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে ভুক্তভোগীদের। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীনর এক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতাল এলাকায় প্রায়ই মশা দমনে স্প্রে করা হয়। কিন্তু মশা কমছেনা। বিশেষ করে নিজতলায় যারা থাকেন তাদের আবস্থা আরও খারাপ। ওয়ার্ডগুলোর নিচতলাতে রোগী ও স্বজনরা একবিন্দুও ঘুমাতে পারেন না। আবার কয়েল জ¦ালিয়ে যে রক্ষা পাবে তাও হাসপাতালে করা যাচ্ছেনা। এক কথায় তারা খুব খারাপ অবস্থায় আছেন।

এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু বলেন, প্রজনন মৌসুমে যশোর পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরে মশা দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১২ দিনে পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে দুটি ফগার ও ১৮ টি স্প্রে মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর মশা দমনে আমরা অত্যন্ত কার্যকর কিছু ওষুধ ব্যবহার করছি। এরমধ্যে টেনিফস নামে একটি ওষুধ রয়েছে। যেটি দানাদার জাতীয়। এটি মশার লার্ভা ধ্বংস করে। যা ড্রেনে বা ময়লা পানিতে ছিটানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। এছাড়া ম্যালাথিয়ন, ফেনক্সসহ আরও কার্যকর ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

পৌর প্রশাসক মো. রফিকুল হাসান বলেন, মশার উপদ্রব বেড়েছে এটি ঠিক। প্রজণন মৌসুম তাই একটু বেশি যন্ত্রণা দিচ্ছে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র কোনো আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, আমরা মশা দমনে স্প্রে করার পাশাপাশি শহরের ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করছি। এতে মশার উপদ্রব কমবে বলে মনে করা যায়। প্রয়োজনে আরও বেশি বেশি স্প্রে করা হবে।

তবে এক্ষেত্রে শহরবাসীকেও সচেতন হতে হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বাসা- বাড়ির পাশের ঝোপঝাড় অনেকে পরিষ্কার রাখছেন না। ছাদবাগানের টবের পানি থেকেও বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে। এসব ব্যাপারে সবাই একটু সচেতন থাকলে মশার সংখ্যা কমবে বলে তিনি মত দেন।