ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে গঠন বিএনপির পক্ষে সম্ভব : তারেক রহমান

যশোরে বিএনপির জেলা সম্মেলন

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন অনেকেই সংস্কারের কথা বলছেন। কিন্তু একমাত্র বিএনপি স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আড়াই বছর আগে দেশ পুনর্গঠনের কথা বলেছে, ৩১ দফা ঘোষণা করেছে। বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণ ও দেশ। তাই ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে গঠন বিএনপির পক্ষে সম্ভব। বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে সবার আগে দেশ পুনর্গঠন করবে।

তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যে দল অতীতে সবচেয়ে বেশিবার জনগণের সমর্থনে দেশ পরিচালনা করেছিল। প্রতিবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়ে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করেছে।

বিএনপির মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জনগণ এবং বাংলাদেশ। অন্যদিকে পতিত স্বৈরাচার অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা দখল করে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। দেশের অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সবকিছু ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে। যে কারণে রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন প্রয়োজন। এ বিষয়টি উপলব্ধি করেই আড়াই বছর আগে বিএনপি জাতির সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করে। এ ৩১ দফার মাধ্যমে বিএনপি দেশ ও জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের ঘটাতে চায়। আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রায় কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। শহীদ জিয়াউর রহমানে খাল খনন কর্মসূচি আবার শুরু করে কৃষকের সেচ ও মাধ্যমে খাল বিলে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা। দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন এবং তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

গতকাল শনিবার যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত বিএনপির জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান।
সকাল ১০ টায় তিনি জাতীয় দলীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা এবং বেলুন ফেস্টুন উড়ানোর মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

এ সময় জাতীয় এবং দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১২ টায় তারেক রহমান ভার্চুয়ালি জেলা বিএনপির সম্মেলনে যুক্ত হন। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আন্দোলন সংগ্রামে নিহতের পরিবারকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।

তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই ক্রান্তিকালে দলের সকল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সাথে তিনি জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশবাসীকে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, আজকে অনেকে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের কথা বলেন। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো আপনারা যশোর জেলা বিএনপির সম্মেলনে আসুন। এই সম্মেলন দেখে বুঝতে সক্ষম হবেন, রাজনীতির যে গুণগত পরিবর্তন সেটি যশোর জেলা বিএনপিসহ দলের সকল ইউনিট করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি বিশাল দল, পলাতক স্বৈরাচারের এই দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। যশোর জেলা বিএনপির সম্মেলনের এক হাজার ৬১৬ জন কাউন্সিলর মধ্যে ন্যূনতম একটি মিথ্যা মামলা নেই এমন কেউ নেই। আমাদের দলের ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। পৃথিবীতে বহু দেশ আছে যাদের জনসংখ্যা ৬০ লাখের কম। হতে পারে একটি পরিবাবের সকল সদস্য যেমন এক রকম না, দলের ক্ষেত্রে ঠিক তেমন। হতে পারে আমাদের লাখ লাখ কিংবা কোটি কোটি নেতাকর্মীর মধ্যে কেউ বিভ্রান্ত হয়ে এমন কিছু কাজ করছে. যেই কাজের নৈতিক সমর্থন আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নৈতিক এবং দলীয় অবস্থান থেকে সেই সকল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কারণ আমাদের রাজনীতির মুল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের সমর্থন থাকে এমন কিছু করা। যে কাজে জনগণের সমর্থন নেই সেই কাজে বিএনপিরও সমর্থন নেই।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দলের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি যারা দলের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে অনৈতিক কিছু করেছেন। কিন্তু কিছু কিছু ব্যক্তি এটিকে বিএনপির দুর্বলতা হিসেবে উপস্থাপন করে ফায়দা হাসিল করতে চায়। দলীয় নেতাকর্মীদের সেই সকল ব্যক্তিদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে হবে বিএনপির অবস্থান পরিস্কার। এই দলের কেউ যদি অন্যায় করে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তার একমাত্র উদাহরণ বিএনপি দেখিয়েছে। এটিই বিএনপির সাথে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় পার্থক্য। অর্থাৎ আমরা কোন অন্যায়কারীকে প্রশ্রায় দিতে দিই না। আমাদের কোন সহকর্মী এমন কিছু করেছে যা সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়, আমার সেটিকে সমর্থন করি না এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তাই দয়া করে বিএনপির অমুক লোক এটা করেছে ওটা করেছে এই কথা বলে বিভ্রান্ত করবেন না। আমাদের কাজ এবং কথা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

জেলা বিএনপির কাউন্সিলের মাধ্যমে যারা নেতৃত্বে আসবেন তারা দলের নীতি আর্দশ মেনে দলকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরেন, দলের আগামী দিনে লক্ষ্য উদ্দেশ্য দেশ ও জনগণের সামনে বেশি বেশি করে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফাসহ, বিগত ১৬ বছরের পলাতক স্বৈরাচারের নির্যাতন, নিপীড়নের কালো অধ্যায়টি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। দলের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য দেশ ও মানুষের সামনে পৌঁছে দেওয়া আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনের উদ্বোধক আমান উল্লাহ আমান বলেন, দেশের প্রতিটি সংকটে জনগণ জিয়া পরিবারকে কাছে পেয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, সর্বশেষ পলাতক স্বৈরাচার বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৬ বছর বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। জীবনবাজি রেখে আন্দোলন করেছি। আমাদের আন্দোলনের পরিসমাপ্তি হয় ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। অতি দ্রুত সময়ে নির্বাচন হবে সেই আমাদের নেতা যাকে মনোনয়ন দেবে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তৃতায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, দল যে নেতৃত্বের প্রতি ভরসা রেখে জেলা বিএনপির দায়িত্ব দিয়েছিল আমরা সেটি যথাযথ ভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। সারা দেশের মতো আমাদের অনেক বৈরি সময় পার করে কাজ করতে হয়েছে। আন্দোলন এবং দল পুনর্গঠনের উভয় ক্ষেত্রেই যশোর জেলা বিএনপি যুপগৎ চেষ্টা করেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির নেতা নির্বাচন করা হচ্ছে। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম যে কারণে এই কাজটি করতে পেরেছি এবং সফল সমাপ্তির দিকে আসতে পেরেছি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব সামনে আসবে এবং দল আর শক্তিশালী ও সসংগঠিত হবে। নতুন নেতৃত্ব দল এবং দেশের প্রতি যে আনুগত্য নতুন যে তার যথার্থ প্রতিফলন ঘটাবে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী টি এস আইয়ূব, আবুল হোসেন আজাদ, সাবিরা নাজমুল মুন্নী, কেশবপুর পৌর বিএনপি সভাপতি আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, যশোর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারাজি মতিয়ার রহমান, ঝিকরগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন সুজন, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু, বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি তানিয়া রহমান, চৌগাছা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম চঞ্চল, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দীন, শার্শা উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি প্রমুখ।