আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামীপন্থী শিক্ষক নেতা ড. এ.এফ.এম সাইফুল ইসলাম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-(যবিপ্রবির) উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন এমন খবরে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের আবেদন জানিয়ে গতকাল শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রোববার যবিপ্রবির কয়েকশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যশোর কালেক্টরেট ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

এসময় সেখানে ড. এ.এফ.এম সাইফুল ইসলামকে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জেনেছি যে, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের নেতা ও ক্রপ বোটানি এন্ড টি প্রোডাকশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম সাইফুল ইসলামকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা চলছে। অথচ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসন আমলে ২০১২ সালে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসর হিসেবে পরিচিত সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের লবিংয়ে তিনি সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এমনকি ড. সাইফুল আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল থেকে দুই দুইবার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য (২০১৪-১৬ ও ২০২২-২৪ সাল) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ড. সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে রাতের ভোটের মূল কারিগর ছিলেন। যার পুরস্কার স্বরূপ পরবর্তীতে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরী শেষে আবারো পুরস্কার হিসেবে শেখ হাসিনা তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর গত বছরের ৮ অক্টোবর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে ড. নাজমানারা খানুম কে পিএসসির সদস্য থেকে বরখাস্ত করে। এমনকি ড. সাইফুল ইসলাম ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

সুতরাং এমন একজন স্বৈরাচার ও আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিকে আমরা যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য হিসেবে শিক্ষার্থীরা কখনও মেনে নিতে পারেনা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সাথে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান তারা। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে কোনো প্রকার এই ফ্যাসিস্টটে দোসরকে যবিপ্রবির প্রোভিসি হিসেবে নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দেয়া এ স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. রফিকুল হাসান। এসময় তিনি স্মারকলিপিটি যথাযথ স্থানে পোঁছে দেয়া হবে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন।

এসময় সেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল খালেক, সুমন আলী, হাবিবুর রহমান ইমরান, হাবিব কানন, ইসমাইল হোসেন ও মাসুদ রানা প্রমুখ।