কয়রায় তরমুজ চাষে ব্যস্ত কৃষক

0

কয়রা(খুলনা) সংবাদদাতা॥ কয়রায় তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক- কৃষাণীরা। কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন। কেউ কেউ বপন করছেন বীজ। আবার কেউ কেউ পানি সেচ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের। কিন্তু সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত তারা। গত বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হাওয়ায় এ বছর তরমুজ চাষে বেশি আগ্রহ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন তারা । তরমুজের মৌসুমে ক্ষেতগুলোতে এলাকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ মেলে। তাই খুশি স্থানীয় শ্রমিকরা ।
কয়রা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমাদী, বাগালী,মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর ও কয়রা সদর ইউনিয়নে চলতি তরমুজ মৌসুমে ৪২০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
সাতালিয়া পূর্ব বিলের আদর্শ কৃষক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, বাম্পার ফলনের আশায় ধারদেনা করে এ বছর ৩৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছি । কেবল তরমুজের ছোট ছোট পাতা বের হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে বাম্পার ফলন হবে। এতে আমি লাভবান হবো বলে আশা করছি।
একই বিলের কৃষক ফজলু গাজী বলেন, আমি প্রতিবছর তরমুজ চাষ করি। এ বছরও ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছি। কেবল ছোট ছোট পাতা বের হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার খরচ অনেক বেশি পড়ছে শ্রমিকের দাম ও জিনিসপত্রের দাম বেশি থাকার কারণে।
মসজিদকুড় গ্রামের কৃষক জুবায়ের বলেন, আমি এ বছর ১৭০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। তরমুজের বীজ রোপণ শেষ করেছি। কেবল পাতা বের হচ্ছে।
ষোলহালিয়া উত্তর বিলের কৃষক মো. বেল্লাল হোসেন উজ্জল বলেন, আমি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে তরমুজ লাগাচ্ছি। কেবল ছোট ছোট চারা বের হয়েছে।
পাটনিখালী বিলের তরুণ কৃষক মো. হাফিজ বলেন, লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরি পাইনি। তাই কৃষি কাজ করে পরিবার নিয়ে সুখে- শান্তিতে আছি। তিনি আরও বলেন, আমি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছি। কেবল বীজ রোপণ করেছি। এখনও চারা বের হয়নি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফরিদ হোসেন বলেন, কৃষকরা জমিতে তরমুজ চাষ করছেন। তারা ড্রাগন, ড্রাগন সুপার, আস্থা,আস্থা প্লাস,পাকিজা,মালিক-১,এশিয়া সুপার,থাই রেড কিং,বিগ সুপার কিং ও বাংলালিংক জাতের তরমুজ চাষ করছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে প্রতি হেক্টর জমিতে ৫০ থেকে ৬০ মেট্রিক টন ফলন হতে পারে। তরমুজ চাষে কৃষকদের হেক্টর প্রতি খরচ হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।
কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। গত বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় এ বছর গতবারের তুলনায় বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হবে ।