ভরা মৌসুমেও বাড়ল চালের দাম

0

 

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। ভরা মৌসুমেও যশোরে সরু চালের দাম বেড়েছে। কেজিতে বাড়ল ২ টাকা। বেড়েছে খামারের মুরগির দাম। এদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনও কাটেনি। সরবরাহ বেড়ে নতুন আলু, নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও সবজির দাম আরও কমেছে। তবে গরুর মাংস ও ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
যশোর শহরের বড় বাজারে আমন ধানের নতুন চাল বাজারে উঠলেও সরু চালের দাম আরও বেড়েছে। চাল ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন জানান, হাটে ধানের দাম বেশি। এ কারণে চালের দাম কমার পরিবর্তে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমন ধানের ফলন কম হয়েছে। তাছাড়া নতুন ধান হাটে ওঠার সাথে সাথে মিল মালিক ও এক শ্রেণির মজুতদাররা আগেভাগে বেশি দাম দিয়ে কিনে নিচ্ছেন। এ কারণে বাজারে চালের দাম কমার সুযোগ হচ্ছে না।
শুক্রবার বড় বাজারে খুচরা পর্যায়ে বাংলামতি চাল প্রতি কেজি মানভেদে ৮৪ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৮২ থেকে ৮৮ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬৮ থেকে ৭৬ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৬৬ থেকে ৭৪ টাকা। তাছাড়া অন্যান্য চালের দাম এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত রয়েছে। যেমন কাজললতা চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫৮ থেকে ৬৬ টাকা, বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ৫৮ থেকে ৬২ টাকা, বিআর-৬৩ চাল বিক্রি হয়েছে ৬৮ থেকে ৭৬ টাকা ও মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে।
এদিকে বড় বাজারে এখনও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি। বাড়তি দামেই খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ী কামাল আহমেদ জানান, কোম্পানিগুলো এখনও তাদের হাতে সরকারের নির্ধারণ করা নতুন রেটের বোতলজাত সয়াবিন তেল দিতে পারেনি। শুক্রবারও বাজারে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে এখন প্রচুর সরবরাহ হয়েছে শীতকালীন নতুন আলু, নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও সবজি। শুক্রবার বড় বাজারে নতুন আলু ও নতুন পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা করে। তবে একসাথে দুই কেজি আলু কিনলে বিক্রেতারা ৯০ টাকাও নিচ্ছেন। তাছাড়া ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫ টাকা, ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে টমেটো, বরবটি, উচ্ছে, শসা, ও ঢেঁড়স। গাজর ও কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। মুলা, বাঁধাকপি ২০ টাকা করে কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজের কালি, শিম। লাউ প্রতিটা বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি।
এ সপ্তাহে বড় বাজারে খামারের সোনালি মুরগির দাম কেজিতে আরও ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা, ব্রয়লার মুরগিতেও এ সপ্তাহে আরও ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। মুরগি বিক্রেতা আবুল হাশেম জানান, শীতে নানান অনুষ্ঠানে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে খামারের মুরগির দামও বেড়েছে।
তবে বড় বাজারের কাঠেরপুলে গরুর মাংস আগের মতই শহরের অন্যান্য বাজার থেকে কেজিতে ৫০ টাকা দরে বিক্রি অব্যাহত আছে। রেট টানিয়ে ৭০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তাছাড়া এ সপ্তাহেও দোকানে খামারের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা।