আলমডাঙ্গার ৩৭ ব্যক্তিকে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

0

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা॥ মোটা অংকের বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে আলমডাঙ্গার ৩৭ ব্যক্তিকে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুততে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতিতদের স্বজনরা চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সম্মেলনে লিবিয়ায় নিয়ে তাদের আপজনদের ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরা হয়। এ সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন তারা।
সম্মেলনে আলমডাঙ্গার ফরিদপুর গ্রামের হারুন জানান, আমার মামাতো ভাই আলমডাঙ্গা উপজেলার নওদা বন্ডবিল গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে সজিব আহম্মেদকে গত জানুয়ারি মাসে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে ভালো বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন একই উপজেলার বেলগাছী গ্রামের জান্টু মেম্বারের ছেলে লিবিয়া প্রবাসী সাগর। সে মোতাবেক আমাদের পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে সাগরের পিতা জান্টু মেম্বার, সাগরের চাচাতো ভাই বেলগাছী গ্রামের জান্টুর ছেলে জিমের কাছে প্রথমে ১০ লাখ টাকা নগদ দেওয়া হয়। কথা হয়, কাগজপত্র প্রস্তুত হলে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে জান্টু মেম্বার ও জিম আমার মামাতো ভাই সজিব আহম্মেদের লিবিয়া যাওয়ার কাগজপত্র আমাদের কাছে দেন। ওই সময় তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় -ইতালির কাগজপত্র না দিয়ে লিবিয়ায় যাওয়ার কাগজপত্র কেন? জিম ও জান্টু মেম্বার জানান, প্রথমে তাকে লিবিয়া নিতে হবে। এরপর লিবিয়া থেকে ইতালি নেওয়া হবে। আমরা তাদের কথায় সরল বিশ্বাসে সেই সময় আরও ৩ লাখ টাকা দেই। বাকি ২ লাখ টাকা ইতালি পৌঁছানোর পর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে লিবিয়ায় পৌঁছানোর মাঝপথে জিম আরও ২ লাখ টাকা দাবি করেন।
জিম জানান, এখনই ২ লাখ টাকা না দিলে সজিবকে ইতালি পাঠানো সম্ভব না। আমরা উপায় না পেয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ধারকর্জ করে আরও ২ লাখ টাকা জিমের হাতে তুলে দিই। কয়েকদিন পর ভিডিও কলের মাধ্যমে লিবিয়ার প্রবাসী জান্টু মেম্বারের ছেলে সাগর জানান, আরও ১০ লাখ টাকা দিতে হবে তা না হলে সজিবের হাত -পায়ের নখ উপড়ে ফেলা হবে। ভিডিওকলে সজিবের কাছে নির্যাতনের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা অবগত হই। এমতাবস্থায় আমরা উপায় না পেয়ে জিমের হাতে বিভিন্ন সময়ে আরও নগদ ৭ লাখ টাকা তুলে দেই। এখনও লিবিয়া থেকে সাগর বিভিন্ন সময় ফোনের মাধ্যমে আরও টাকার দাবি করেন। তারা বলেন, তোদের ছেলেকে বাঁচাতে চাইলে আরও টাকা দিতে হবে।পরে আমি সাগরের নিকট ফোন করে জানতে পারি, আমার গ্রামের ১৯ ব্যক্তিসহ আশপাশের ৩৭ জনকে জিম্মি করেছে তারা। সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই। সাগর লিবিয়ায় থাকলেও আমি সম্পূর্ণ টাকা জিম, তার চাচাতো ভাই জীবন ও বেলগাছী গ্রামের ঠান্ডুর স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা বেদেনা খাতুন ও জান্টু মেম্বারের কাছে দিয়েছি। আমি তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।