জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হবে : যশোরে জামায়াতে ইসলামী আমীর শফিকুর রহমান

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হবে। কোন ষড়যন্ত্রকারী যেন ঢুকে আমাদের ঐক্য নষ্ট করতে না পারে। এর জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। শুক্রবার রাতে শহরের চাঁচড়া মোড়ে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, যারা জামায়াত ইসলামীর উপর ফ্যাসীবাদের থাবা বিস্তার করেছিলেন। একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে মানুষের সম্পদ লন্ঠন করে বিদেশের মাটিতে বাড়ি করেছেন। আমরা তাদেরকে ক্ষমা করবো না। তাদের বিচার এদেশের মাটিতে হবে। তারা এদেশ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে ছিলো। আজ তারা নিজেরাই নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।
পথসভা শেষে তিনি সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এর মাঝে ঝিকরগাছা ও নাভারণে পৃথক দুটি পথ সভায় বক্তব্য দেন। শনিবার তিনি সাতক্ষীরায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেছেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ সবাই অংশ নিয়েছেন। তারা গুলির সামনে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন মুক্তির জন্য। সেই আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন তারা জাতীয় বীর। তাদের জন্য আমরা গর্বিত।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নির্দিষ্ট কোনো দল, ধর্মের লোক অংশ নেয়নি। সেই সময় এক অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঐক্য ধরে রেখে দেশ গড়তে হবে। কেউ যেন এই ঐক্য নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা জাত পাত, ধর্ম বৈষম্য দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, যারা একনাগাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে লুণ্ঠন, হত্যা, গুম করেছেন, আমরা তাদের ক্ষমা করবো না। অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে তারা হত্যা করেছে। দেশপ্রেমিকদের রুখতে তারা জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু স্বয়ং আল্লাহ তাদেরকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। এই জন্য শুকরিয়া আদায় করুন।
‘অভ্যুত্থানের পর আমাদের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠেনি’ মন্তব্য করে তিনি কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কারও গায়ে হাত তুলবেন না। আমরা আত্মত্যাগ করতে জানি। সবাই আমরা আবু সাঈদ।’
বক্তৃতা শেষে জামায়াত আমির যশোরে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত আমিনুল ইসলাম সজলের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করেন। সম্প্রতি জামায়াত কর্মী সজল দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবু জাফর, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সহ-সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, বেলাল হুসাইন, মাওলানা রেজাউল করিম, সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, আনোয়ারুল ইসলাম, নুর আলা নুর মামুন, আবু ফয়সাল প্রমুখ।