সংকট কাটছে না যবিপ্রবির মেডিকেল সেন্টারের

0

যবিপ্রবি সংবাদদাতা॥ চিকিৎসক ও ওষুধ সংকট যেন কাটছেই না যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ছয় হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্যে আছে মাত্র তিনজন চিকিৎসক। এছাড়াও রয়েছে প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে বিভিন্ন পরীক্ষার কেমিক্যালের সংকট। তবে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে স্থায়ী ডাক্তার পাওয়া সম্ভব হবে। এদিকে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ ও ২৪ ঘন্টা চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, চিকিৎসক কম থাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বেশিরভাগ সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাওয়া যায় না। তাছাড়া ২৪ ঘন্টা চিকিৎসাসেবা চালু না থাকায় প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে শহরের হাসপাতালগুলোতে যেতে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত ডাক্তার নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক বন্ধের দিনসহ ২৪ ঘন্টা জরুরি সেবা চালু ও সকল ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করার জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ দিলেও তাদের বেশিরভাগ উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) বা অন্য চাকরি পেলে চলে যান। ফলে সংকট তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানালেও স্বাভাবিক সময়েও চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। চাকরির বয়সসীমা বাড়িয়ে নিয়োগ দেওয়া হলে এ সংকট সমাধান করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির প্রধান চিকিৎসক কর্মকর্তা ডা. দীপক কুমার মন্ডল বলেন, মেডিকেল সেন্টারটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমি আছি। যখন ওষুধ সংকটের কারণে কোনো শিক্ষার্থী ফিরে যায় তখন নিজের কাছে অনেক খারাপ লাগে। শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের সময় ওষুধের টেন্ডার সংক্রান্ত ফাইলগুলো সই করা সম্ভব না হওয়ায় একটা দীর্ঘ সময় ওষুধের কিছু সংকট ছিল। ওষুধের টেন্ডার হয়েছে। আশা করি এ সপ্তাহ থেকে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত ওষুধ পাবেন। আমি গত দেড় মাস ধরে একটি অ্যাক্সিডেন্টে অসুস্থ থাকায় ওই সময়ে দিনে একজন ও সন্ধ্যাকালীন একজন ডাক্তার সেবা দেন। যার ফলে আমরা আশানুরূপ সেবা দিতে পারিনি। এছাড়া নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হওয়ার পর তাদের বিসিএস হয়ে গেলে তারা চলে যাওয়ায় চিকিৎসক সংকটে পড়ে। আমরা এ থেকে উত্তরণের জন্যে প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছি।