দুবলার চরে আজ থেকে রাস পূর্ণিমা ও পুণ্য স্নান শুরু : হরিণ শিকারীরা তৎপর

0

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট) ও এইচএম শফিউল ইসলাম,কপিলমুনি (খুলনা) ॥ আজ (১৪ নভেম্বর) থেকে তিন দিনব্যাপী সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস পূর্ণিমা ও পুন্য স্নান শুরু হচ্ছে। এ উৎসব ঘিরে উপকূল অঞ্চলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস পূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নান ছাড়া এবারও উৎসবকে কেন্দ্র করে হচ্ছে না রাসমেলা। ২০২১ সাল থেকে রাসমেলা বন্ধ রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে চোরা শিকারীরা রাস পূর্ণিমায় হরিণ শিকারে মেতে উঠেছে।
প্রতি বছর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ভরা পূর্ণিমায় সুন্দরবনের দুবলারচর,আলোরকোলে ৩ দিনব্যাপী রাস মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে সুন্দরবনের দুবলার চরে আগামী ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
খুলনার মোংলার করমজল বন কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান,রাস পূর্ণিমার এই তিন দিন বন বিভাগ সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করেছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এবারও পুণ্যার্থী ছাড়া অন্য কেউ এ সময় সুন্দরবনে ভ্রমণ করতে পারবেন না।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, এবারও ‘রাসমেলা হচ্ছে না। রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে দুবলার চরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বন বিভাগের পাস পারমিট নিয়েছে। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। তবে বন বিভাগের নির্দেশনা মানতে হবে।’
তীর্থযাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, চোরা শিকারীরা বনের ভেতর তাদের ফাঁদ পেতে রেখেছে। সুযোগ বুঝে হরিণ শিকার করে তারা চড়া দামে মাংস বিক্রি করবে। প্রতিবার বনে যাওয়া পাইকগাছার আগড়ঘাটা এলাকার ইছাক আলী,শামিম গাজী,উবাইদুল বলেন, শিকারীদের ফাঁদে অনেক সময় শূকর ধরা পড়ে। সেগুলোও হরিণের মাংস বলে তারা বিক্রি করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উ্পকুলীয় এলাকার অসৎ কিছু শিকারী রাস উৎসব শুরু হওয়ার ১০/১৫ দিন আগে জেলে ও বনজীবী সেজে বিভিন্ন কৌশলে বনের ভেতরে প্রবেশ করে। উৎসব শুরু হলে শিকারীরা তীর্থযাত্রীদের সাথে একত্রিত হয়ে মিশে যায়। মেলার আনন্দে মেতে ওঠা দর্শনার্থী ও নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হরিণ শিকারে মেতে ওঠে।
পুণ্যস্নানে নিরাপদে যাতায়াতের জন্য দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ পাঁচটি পথ নির্ধারণ করেছে। এ সকল পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল দল তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। পূজা ও পুণ্যস্নানে আগত তীর্থযাত্রীরা বিভিন্ন নদী পথে লঞ্চ, ট্রলার, স্পিডবোট ও দেশি নৌকাযোগে গমন করে থাকেন।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন বলেন, আগেই আইন শৃঙ্খলার সভায় জানানো হয়েছে, সুন্দরবনে কোনপ্রকার বন্যপ্রাণী শিকার করা যাবে না। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সারওয়ার আলম জানান, রাস পূর্ণিমায় পূজা ও পুণ্যস্নানে আগত তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে পশ্চিম বন বিভাগের অভিযান পরিচালনার জন্য কয়েকটি টিম কাজ করবে।