২৭৮ শয্যার হাসপাতালে ৭৩৯ রোগী !

0

বিএম আসাদ ॥ ২৭৮ শয্যার হাসপাতালে এখন ভর্তি থাকছেন ৭৩৯রোগী। শয্যায় জায়গা না পাওয়ায় রোগীর ঠাঁই হচ্ছে হাটাচলার স্থানে ও করিডোরে। এক রোগীর গায়ে গা ঘেসে থাকছে আর এক রোগী। এতো রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও সেবিকাদের। গত তিন মাস ধরে চলছে এ অবস্থা।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পূর্ব ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৩৯ জন। এদিন ছাড়পত্র পায় ২৮৯জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানিয়েছেন, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এখন এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ২০০৩ সালে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা চালু হওয়ার পর ২০০৬ সালে যোগ হয় ২৮ শয্যা বিশিষ্ট করোনারি কেয়ার ইউনিট। সব মিলে ২৭৮ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে এখন রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। যশোরসহ আশপাশের জেলার লোকজন অসুস্থ হলেই নিরাপদ চিকিৎসার স্থান হিসেবে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে বেছে নেয়। খুলনা সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকলেও রোগীরা প্রথমেই ভীড় করেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। এতে করে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এ হাসপাতালে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, একাধিকবারের মন্ত্রী ও আধুনিক যশোর উন্নয়নের কারিগর প্রয়াত তরিকুল ইসলাম ২০০৩ সালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও ২০০৬ সালে যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিট চালু করেন। তার একক প্রচেষ্টায় যশোরবাসী চিকিৎসার এ অভাবনীয় সুবিধা পেয়েছেন। আর এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে বেড়েছে চিকিৎসা প্রত্যাশী রোগীর ভীড়।
ফলে বর্তমানে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে প্রতিনিয়ত ২ হাজার আবার কখনো ২ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। সকাল ৭টা থেকে রোগীরা হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে এসে টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। টিকিট সংগ্রহ করার পর বর্হিবিভাগে চিকিৎসকদের হাসপাতাল চেম্বারের সামনে পড়ে যায় রোগীর ব্যাপক ভীড়। রোগীর ভীড়ে চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারী সকলেরই যেন হাপিয়ে উঠছেন।
আন্তঃবিভাগে রোগীর ভীড়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক সেবিকা ও ওয়ার্ডের কর্মচারী সকলেরই গলদঘর্ম অবস্থার সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. মো. বজলুর রশীদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, মানুষ সচেতন হচ্ছে, অসুস্থবোধ করলেই হাসপাাতালমুখি হচ্ছে। যার কারনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এত রোগীর চাপ সামাল দেয়া কঠিন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।