যবিপ্রবিতে নির্যাতনের আট বছর পর ছাত্রলীগের ৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আট বছর আগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছাত্র মো. শাহিনুর রহমানকে আবাসিক হলের একটি রুমে নিয়ে নির্মম নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কারণে ভয়ে সেই সময় আইনের আশ্রয় নিতে পারেননি ভুক্তভোগী ছাত্র। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনকুলে হওয়ায় গতকাল রোববার তিনি আমলী আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন- বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজাগ এলাকার কার্তিক চন্দ্র দে’র ছেলে বিপ্লব কুমার দে শান্ত, মাসকাটা গ্রামের মহর আলীর ছেলে এস এম শামীম হাসান, সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের শেখ আলতাফ হোসেনের ছেলে তানভীর ফয়সাল, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মধুপুর গ্রামের মুন্সী গোলাম মোস্তফার ছেলে আল মামুন বিশ্বাস, ঢাকার আশুলিয়ার ধলপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মাসুদুর রহমান রনি, বগুড়া সদর উপজেলার মাতলপাড়ার শেখ মো. ফেরদৌসের ছেলে শেখ জগলুল, যবিপ্রবি’র ২০১১-২০১২ সেশনের ছাত্র হাসান মাহমুদ শান্ত ও ২০১৩-২০১৪ সেশনের ছাত্র আব্দুল হালিম শাহ। হাসান মাহমুদ শান্ত ও আব্দুল হালিম শাহ ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা তৎকালীন সময়ে যবিপ্রবি’র ছাত্র ছিলেন। আসামিদের সকলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। অপরদিকে মামলার বাদী মো. শাহিনুর রহমান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা গ্রামের মো. লুৎফর রহমানের ছেলে। তিনি যবিপ্রবিতে জ্বীন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের মাস্টার্স ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন।
মামলায় ভুক্তভোগী শাহিনুর রহমান উল্লেখ করেছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মশিউর রহমান হলের ৩১৬ নম্বর আবাসিক রুমের ছাত্র ছিলেন। উল্লিখিত আসামিরা জোরপূর্বক ৩১৬ ও ৩১৭ নম্বর রুমের দখল নিতে ছাত্রদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নানাভাবে নির্যাতন করতেন। একই উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালের ১৬ জুন দুপুর ২টার দিকে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও হকিস্টিক নিয়ে অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় তলার পরীক্ষার রুমের সামনে থেকে শাহিনুর রহমানকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। তারা পর্যায়ক্রমে ৩১৭ ও ৩২০ নম্বর রুমে তাকে নিয়ে হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে শাহিনুর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে যবিপ্রবি’র দুই জন শিক্ষক বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহিনুর রহমানকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে উল্টো তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো। সেই মামলায় জেল খেটেছেন শাহিনুর রহমান।