স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামী লীগের বিগত ১৬ বছরের শাসন আমলে যশোরে বিরোধী নেতাকর্মিদের ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়নকারী পুলিশ কর্মকর্তারা এখনো বহাল আছেন। যশোরের পরতে পরতে দগদগ করছে তাদের নির্যাতন চিত্র। নির্যাতিতরা বয়ে বেড়াচ্ছেন দুর্বিসহ স্মৃতি। এরপরেও বিরোধী নেতাদের দেখলেই লাঠি হাতে তেড়ে আসা পুলিশ কর্তারা আওয়ামী পুলিশ থেকে এখন সরকারি পুলিশ পুলিশ হওয়ার চেষ্টা করছেন।
যশোরে নিষ্ঠুর নিপীড়নকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের তালিকা বেশ লম্বা। তারা বিএনপিসহ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর ওপর চালিয়েছেন অবর্ণনীয় নির্যাতন। লাঠিচার্জ করে রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং বানচাল, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের গুম, ক্রসফায়ার এবং নাশতকার মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বের হওয়ার সাথে সাথে ফের ধরে নিয়ে নাশতকার মামলার আসামি বানানোর ভয় অর্থ-বাণিজ্য ছিলো প্রায় ওপেনসিক্রেট। কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন ওইসব পুলিশ কর্মকর্তা। বিশেষ করে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের নিষ্ঠুরতা সকল রেকর্ড ভেঙেছিল। বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের সভা-সমাবেশ প্রায় এক প্রকার নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই সব দুঃসহ দিনগুলি সামনে এলে এখনো ভুক্তভোগীরা আঁতকে ওঠেন।
আওয়ামী লীগের বিগত ১৬ বছরের শাসন আমলে জয়দেব কুমার ভদ্র, আশরাফ হোসেন, মঈনুল হক, আনিসুর রহমান এবং প্রলয় কুমার জোয়ারদার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দীর্ঘ মেয়াদে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আনিসুর রহমান। তার সময়কালে অপরাধী দমনের নামে বিশাল বিশাল মহড়ার আড়ালে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিবি পুলিশের সাবেক ওসি ইমাউল হক, সদর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক টিএসআই রফিকুল ইসলাম, কোতয়ালি থানার সাবেক এসআই শোয়েব উদ্দিন আহমেদ, এসআই হাসানুর রহমান, চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এসআই জামাল হোসেন ও খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক এএসআই মাসুদসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন আনিসুর রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন। এদের মধ্যে এসআই শোয়েব উদ্দিন আহমেদ ও এসআই জামাল হোসেন মানিক জোড় হিসেবে পরিচত ছিলেন। বিশেষ টিমের নামে তাদের আসল কাজ ছিলো বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুম অথবা ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। পুলিশের সাজানো নাশকতার মামলার আসামি হয়ে কেউ কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেলে ফের তাকে জেলগেট থেকে ধরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। বিশেষ করে তাদের টার্গেট ছিলো আর্থিক সচ্ছল বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাদের। অপরাধের সাথে জড়িত এমন কেনো যুবকদের ধরে এনে কথিত ক্রসফায়ারের নামে তারা হত্যা করেছেন অথবা গুলি চালিয়ে অঙ্গহানি করেছেন বলেও তাদের বিরুদ্ধে বিস্তার অভিযোগ রয়েছে। এদের কারো কারো পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। ওই সময় একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই জন অংশীদারকে ধরে নিয়ে গিয়ে প্রথমে গুম করে রেখেছিলেন তারা। এরপর তাদের পরিবার ১৪ লাখ দিলে তাদেরকে অজ্ঞাত স্থান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই টাকার বড় অংশ খামের ভেতরে করে চলে যেতো পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের কাছে। ওই টাকা তিনি পরবর্তীতে কার্টুনে করে যশোর থেকে তার শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন সাবেক এসআই জানিয়েছেন। মাদক সেবনের অভিযোগ এনে ওই এসআইকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে সাবেক পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে। যশোরের চাকরিজীবনে অর্থবাণিজ্যসহ নানা অন্যায় কর্মককাণ্ডের অভিযোগে ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আদালতে কয়েকটি মামলা করেছেন। অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আনিসুর রহমানকে নৌ পুলিশে বদলি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তাকে ডিআইজি পদে পদোন্নতি দিয়ে রাজশাহী রেঞ্জের দায়িত্ব দিয়েছিল। সেখানেও তিনি বেশ বিশেষ বাহিনী তৈরি করে গুপ্ত হত্যায় জড়িয়ে ছিলেন। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান যশোরে থাকাকালীন সেই সময় টিএসআই রফিকুল ইসলাম ছিলেন অর্থবাণিজ্যের শীর্ষে। পতিতালয় থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা পর্যন্ত এমন কোনো অপরাধমূলক খাত নেই যেখান থেকে তিনি নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা মাসোয়ারা পাননি। তিনি নিজেকে পুলিশের জেলা দেখভালের দায়িত্বের কর্মকর্তা হিসেবেও পরিচয় দিতেন। তার বিরুদ্ধে পাচারের স্বর্ণ উদ্ধারের পর আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় তাকে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নানা কৌশলে ফের যশোরে ফিরে আসেন। যশোরে ফিরে ফের বেশুমার অর্থবাণিজ্য শুরু করেন টিএসআই রফিকুল ইসলাম। ইতোমধ্যে স্ত্রীসহ তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়ায় দুদক মামলাও করেছে। ক্রয়ফায়ারের ভয় দেখিয়ে এবং বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুম করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ইতোমধ্যে সাবেক টিএসআই রফিকের বিরুদ্ধে আদালতে কয়েকটি মামলা হয়েছে। বর্তমানে ওই পুলিশ কর্মকর্তা টিআই পদোন্নতি পাওয়ায় ফরিদপুরে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাবেক এসআই জামাল হোসেন, এসআই শোয়েব উদ্দিন আহমেদ, এসআই হাসানুর রহমান এবং এএসআই (পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে এসআই) মাসুদ ছিলেন ক্রসফায়র ‘স্পেশালিস্ট’। তাদের হাতে অনেকের প্রাণ গেছে, বেশ কয়েকজন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত এমন ধুয়া তুলে যুবকদের তুলে নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় এবং তাদের পায়ে গুলি করার অভিযোগ রয়েছে এসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নাশকতার মামলার ভয় দেখিয়ে, ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে এসআই শোয়েব উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যশোর কোতয়ালি থানার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ওসি ছিলেন ইনামুল হক। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের পরামর্শে বিএনপিসহ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য সাজানো নাশকতার মামলা দিয়েছেন ওসি ইনামুল হক। মূলত বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দমন করতে তার বড় হাতিয়ার ছিলো নাশকতার মামলা দায়ের। ওই সময় তার সাজানোর নাশকতার মামলার হাত থেকেও রক্ষা পাননি বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম। নড়াইলের বাসিন্দা ওসি ইনামুল হক বর্তমানে অবসরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ডিবি পুলিশের তৎকালীন ওসি ইমামুল হকও সাবেক পুলিশ সুপার আসিনুর রহমানের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি অর্থবাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে অসংখ্য মানুষের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে এমন কথা প্রচার করে মামলাও দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এ ধরনের একটি ভুয়া মামলার কারণে তিনি চাকরি হারাতে বসেছিলেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়। ঝিকরগাছার এক ব্যক্তির কাছে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে এমন কথা প্রচার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিলেন তিনি। তিনি কোনো ইয়াবা ট্যাবলেট জমা দেননি সংশ্লিষ্ট থানায়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ৫০ হাজার পিস ইয়াবার হদিস না পাওয়ায় বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। তবে ওই কর্তৃপক্ষের পরামর্শে নকল ইয়াবা ট্যাবলেট আলামত হিসেবে আদালতে জমা দিয়ে ইমামুল হককে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রক্ষা করেছিলেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোতয়ালি থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আলোচিত অপূর্ব হাসান। এর আগে তিনি এসআই পদে থাকাকালীন একই থানায় কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতি পেয়ে ইনসপেক্টর হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। সেখানে স্বর্ণ চোরাচালানীদের কাছ থেকে কমিশন আদায়সহ সীমান্ত ঘাট মালিকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বেনাপোলের এক কলেজছাত্রকে তুলে নিয়ে গুম করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সম্প্রতি গুম হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর পরিবার ওসি অপূর্ব হাসান এবং তার অন্যতম সহযোগী হিসেবে এসআই নুর আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। যা আদালতের আদেশে বেনাপোল পোর্ট থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ওসি অপূর্ব হাসান পরে যশোর কোতয়ালি থানায় বদলি হয়ে এলে আওয়ামী লীগের হাতিয়ার হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং সাজানো মামলা দেওয়া ছাড়াও বিভিন্নভাবে নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে খুশি করতে দলবল নিয়ে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের বাড়িতে প্রাচীর টপকে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন সেই সময়। ঘটনাটি ওই সময় ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলো। আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালের রাতের ভোটও হয়েছিল ওসি অপূর্বের নেতৃত্বে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীর এক সময় কোতয়ালি থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আক্কাস আলী। তিনিও বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেক নিপীড়ন চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাগেরহাটের বাসিন্দা ওসি আক্কাস আলী বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। অবসরে যাওয়ার পর তিনি পুরোদস্তুর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে অংশগ্রহণ এবং দলীয় নেতাদের সাথে দেখা যেতো। যা তিন ফেসবুকে প্রচারও করতেন। সাবেক ওসি আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি যশোরের আদালতে মামলা হয়েছে। নিপীড়নের শিকার একজন ভুক্তভোগীর পরিবার মামলাটি করেছে বলে জানা গেছে।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের কিছুদিন আগ পর্যন্ত যশোরে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আরেক আলোচিত প্রলয় কুমার জোয়ারদার। তিনি শেখ হাসিনার অত্যন্ত কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। তিনিও যশোরে থাকাকালীন বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন কৌশলে নিপীড়ন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন, কোতয়ালি থানা পুলিশের তৎকালীন ইনসপেক্টর (অপারেশনস) পলাশ কুমার বিশ্বাস এবং এসআই আনছারুল হক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল মিটিং করতে দিতেন না। বিশেষ করে পলাশ কুমার বিশ্বাস এবং আনছারুল হক মিছিল মিটিং করতে কোথাও জড়ো হলে সেখানে গিয়ে হামলে পড়তেন। লাঠিচার্জ করতেন। জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিন বেগমের সাথেও অত্যন্ত বাজে আচারণের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। লাঠি উঁচু করে তাকে আঘাত করতে উদ্যত হয়েছিলেন এসআই আনছারুল হক। অপরদিকে ডিবি পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করতেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন। বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কয়েকটি অনুষ্ঠানে ডিবি পুলিশকে পাঠিয়ে লাঠিচার্জ করিয়েছেন বেলাল হোসাইন। নেতাকর্মীরাই ঢাল হয়ে এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে রক্ষা করেছেন। মণিহার এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিআরসি’র একটি বাসে পরিকল্পিত আগুন লাগিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিয়ে নাশকতার গল্প সাজিয়ে কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের এবং ওই মামলায় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে আসামি করিয়েছিলেন। সর্বশেষ যশোরে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ধর্মতলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইনের নেতৃত্বে পুলিশ ধর্মতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছিলো। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইনকে বরিশাল মেট্রোপলিটনে বদলি এবং ডিবি পুলিশের ওসি রুপন কুমার সরকারকে যশোর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। কোতয়ালি থানার এসআই আনছারুল হক শেখ হাসিনার সরকারের পতনের কয়েক মাস আগে বদলি হয়ে চুয়াডাঙ্গায় গেছেন বলে জানা গেছে। তবে পরবর্তীতে অভিযুক্ত ইনসপেক্টর পলাশ কুমার বিশ্বাসকে মনিরামপুর থানায় বদলি করা হয়। সেখানে তিনি এখনো পর্যন্ত কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় মানুষও হতবাক হয়েছেন।





