যশোরে যৌথসভায় যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না, মানুষের ওপর কোন অন্যায় অত্যাচার করা যাবে না

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথসভায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, মানুষের ওপর কোন অন্যায় অত্যাচার করা যাবে না। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ মানুষের সাথে যা করেছে, মানুষ সকল কর্মকান্ড ঘৃণভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সে অবস্থান নিয়েছেন। ইতোমধ্যে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক হাজার ২৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। গুটি কয়েক দুষ্ট লোকের কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এটা কেউ মানবে না এবং তার দায় দল নেবে না। তাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে দলের কোন নেতাকর্মীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রোববার জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদল আয়োজিত সাম্য ও মানবিক সমাজ নির্মাণে দিক নির্দেশনা মুলক যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জেলা পরিষদ মিলনায়তে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান।
সভায় আব্দুল মোনায়েম মুন্না আরও বলেন এই যশোরে আওয়ামী লীগের গুন্ডাতন্ত্রের অন্যতম মাস্টার মাইন্ড ছিল শাহীন চাকলাদার। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে শাহীন চাকলাদার সারা বাংলাদেশে অনেক কুখ্যাতি অর্জন করেছিল। বাংলাদেশে সবচেয়ে ধনী দুই উপজেলা চেয়ারম্যানের একজন ছিলেন যশোরের শাহীন চাকলাদার অন্যজন কেরানীগঞ্জের শাহীন। যশোরের এই কুখ্যাত গুন্ডা কিভাবে পালিয়ে গেল?
যুবদল সভাপতি আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, বিগত দিনে এই যশোরে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে তাদের গ্রেফতার করুন। একই সাথে পালিয়ে থাকা যশোরে যুবলীগ, ছাত্রলীগের অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করুন। পাশপাশি বিএনপি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যারা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা, খুন, জখম করেছে তাদেরও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান ।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা না করার নিদের্শ প্রদান করে বলেন, এটা মানুষ ভালোভাবে নেয় না। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ছিল আওয়ামী লীগের গুন্ডাতন্ত্রের ভয়ভীতির স্মারক। তাই আমরা মোটরসাইকেল শোভযাত্রা নিষিদ্ধ করেছি। আপনারা (দলীয় নেতাকর্মী) বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে মিশবেন কথা বলবেন। কিন্ত ৫০ জন নিয়ে দলবদ্ধ ভাবে কেউ বাজারের যাবেন না।
আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন সূচনা হয়েছিল বিএনপির হাত ধরে। যার নেপথ্যে ছিলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশ নায়ক তারেক রহমান। যেটি দেশের সকল মানুষের জানা আছে। তাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দায়ের করা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নামে দায়েরকৃত সকল প্রহসনের মামলার রায় এবং মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের অন্তবর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টার কাছে জোর দাবি জানান।
জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক গাজী সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. নুরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ।
যৌথসভা পরিচালনা করেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি।