বকচরে খামার কর্মচারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার, ডিবি হেফাজতে ৩

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের বকচর বিহারী কলোনিতে মিলন মোল্লা (৪১) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের দাগ রয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে চৌধুরী ফুড প্রোডাক্টসের রানী চানাচুর কারখানার পাশের একটি গরুর খামার সংলগ্ন টোঙঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গরুর খামারটি রানী চানাচুর কারখানার মালিকের এবং নিহত ওই ব্যক্তি গরু দেখভালের দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু কী কারণে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রানী চানাচুর কারখানার ৩ কর্মচারীকে ডিবি পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত মিলন মোল্লা মনিরামপুর উপজেলার জালঝাড়া গ্রামের আসমান মোল্লার ছেলে।
রানী চানাচুর কারখানার কর্মচারী তরিকুল ইসলাম জানান, চৌধুরী ফুড প্রোডাক্টসের মালিক হাসাবুল ইসলাম চৌধুরী টুকুর কারখানার পাশে একটি গরুর খামার রয়েছে। ওই খামারে চাকরি করেন মিলন। খামার সংলগ্ন একটি টোঙঘরে থাকতেন তিনি। সর্বশেষ গত রোববার সকালে মিলনের সাথে তার দেখা হয়। গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে তরিকুল মাছ ধরার জন্য গরুর খাবার সরিষার খৈল নেওয়ার জন্য মিলনের টোঙঘরে ঢোকেন। ঘরের ভেতর খৈল খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি তিনি খাটের ওপর শোয়া মিলনকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। কিন্তু খৈল না পাওয়ায় তিনি কাত হয়ে শুয়ে থাকা মিলনকে জাগানোর জন্য ধাক্কা দেন। এ সময় তিনি লক্ষ্য করেন, মিলনের গলা কাটা এবং মারা গেছেন। সাথে সাথে তিনি চিৎকার দিলে কারখানার অন্য কর্মচারীরা টোঙঘরে ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে নিহত মিলনের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তরিকুল ইসলাম আরও জানান, মিলনের সাথে কারো কোনো গোলাযোগ নেই। কী কারণে কারা তাকে হত্যা করেছে তা তারা জানেন না।
রানী ফুড প্রোডাক্টসের মার্কেটিং ম্যানেজার মাসুদুর রহমান চুন্নু বলেন, মিলন দীর্ঘ ৫ বছর ধরে গরুর খামারে চাকরি করছেন। তার সাথে কারো কোনো দ্বন্দ্ব ছিলোনা। ভালো ছেলে ছিলেন মিলন। কিন্তু কারা তাকে খুন করেছেন তা তারা জানতে পারেননি।
নিহতের পিতা আসমান মোল্লা জানান, মিলনের স্ত্রী ও সন্তানেরা মনিরামপুরের বাড়িতে থাকতো। মিলন একাই গরুর খামারে থাকতো। তিনি বলেন, তার ছেলেকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই হত্যার বিচার চান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ডিবি পুলিশের এসআই মো. নুর ইসলাম জানান, কারা মিলনকে খুন করেছে তা তারা এখনো জানতে পারেননি। তবে হত্যাকা- সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জনকে হেফাজতে নিয়েছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এসআই এনামুল হক বলেন, তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছেন। একই কথা বলেছেন কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই কবির হোসেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল জুয়েল ইমরান জানান, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।