বাগেরহাটে বেশিরভাগ ডিলার আত্মগোপনে ওএমএসের পণ্য নিতে ভোগান্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষ

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওএমএসের বাগেরহাটে ডিলাররা আত্মগোপনে থাকায় চাল বিক্রি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে খাদ্য বিভাগ। চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না ওএমএস-র চাল ও আটা।নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাগেরহাট সদর খাদ্য গুদামে (ওএমএস) চাল-আটা কিনতে স্বল্প আয়ের মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ ভিড় করছেন খাদ্য গুদামের সামনে। ওএমএসের চাল ,আটা নিতে গেলেই অনেককে নিয়মিত কাজকর্ম বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কেউ কেউ নির্ঘুম রাত কাটিয়ে ভোরে এসে ওএমএসের পণ্য নিতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
খাদ্য গুদামের সূত্র জানা যায়, পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ১১শ ক্রেতার মাঝে চাল ও আটা বিক্রি করতে হয়। সপ্তাহে ৫ দিন চলে ওএমএসের কাযর্ক্রম। আগে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষ খোলাবাজারের চাল-আটা কিনলেও এখন মধ্যবিত্তরাও এ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। তবে চাল- আটার বরাদ্দ আগের মতোই রয়েছে। তাই লাইনে দাঁড়ানো সবাইকে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে লাইনে আগে দাঁড়ানো নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই হট্টগোল হচ্ছে। যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
খোলা বাজারে পণ্য নিতে আসা আবুল কালাম বলেন, ভোর পাঁচটা থেকে সামনে দীর্ঘ লাইন। দু-ঘণ্টা অপেক্ষা করে ৪ কেজি চাল কিনেছি। তাতে ১০০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। হাওয়া বেগম নামের এক নারী বলেন, সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ছোট ছোট ছেলে- মেয়েদের বাড়িতে রেখে এসেছি ।সকালে খাবারও দিতে পারিনি ।এখন বারোটা বাজে। এখনও চাল কিনতে পারিনি। যদি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চাল, আটা দিত আমাদের একটু সুবিধা হত।
খাদ্য বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর মো. আলামিন বলেন, আমাদের এই কার্যক্রম শুরু হয় ফজরের আগ থেকে ।আর লোকজন ভোর চারটার সময় থেকেই এখানে এসে লাইন দিতে থাকে। আমাদের আসলে আগের অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু আমরা প্রতিদিন এখানে ১১০০ লোককে চাল দেওয়া হয়। এখান থেকে কাজ শেষ করতে করতে বিকেল ৫ টা বেজে যায়।
বাগেরহাট খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, বাগেরহাট পৌরসভায় সপ্তাহে ৫ দিন প্রায় ৬০০০ ভোক্তাকে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকায় দেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওএমএসের বাগেরহাট পৌরসভার ১০ জন ডিলার আত্মগোপনে যায়। এরপর থেকে ১৭ দিন ধরে বন্ধ থাকে খোলা বাজারে ওএমএসের চাল বিক্রি। ভোক্তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ২২ আগস্ট খাদ্য বিভাগের খোলা বাজারে ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হয় ।বাড়তে থাকে ভোক্তার সংখ্যা।