দুদকের মামলা টিএসআই রফিকের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ৭০ হাজার ৫শ, তবে স্ত্রীর ৭ কোটির অধিক

0

স্টাফ রিপোর্টার ।। যশোরের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক টিএসআই রফিকুল ইসলাম রফিকের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ৭০ হাজার ৫শ টাকা ও তার স্ত্রীর ৭ কোটি ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫২ টাকা। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা দু’টি মামলায় এ হিসাব দেওয়া হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে স্বামী অভিযুক্ত সাবেক টিএসআই রফিক পুলিশ বিভাগে কর্মরত থেকে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন করে তা স্ত্রী ঝর্ণা ইয়াসমিনের নামে অর্জন দেখিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হয়েছে। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন মামলা দুটি করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আল আমিন।

আসামি সাবেক টিএসআই রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর সুকতাইল বড়বাড়ি এলাকার মৃত রতন আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুরে ট্রাফিক ইনসপেক্টর (টিআই) পদে কর্মরত। তার স্ত্রী আসামি ঝর্না ইয়াসমিনের ঠিকানাও একই।

সাবেক টিএসআই রফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় দুদক উল্লেখ করেছে, অভিযুক্ত রফিক ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর পুলিশ বিভাগে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে এটিএসআই, ২০২১ সালে পদোন্নতি পেয়ে টিএসআই এবং ২০১৬ সালের ২৮ জুন ফের পদোন্নতি পেয়ে ট্রাফিক ইনসপেক্টর হন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে তার কাছে সম্পদ বিবরণীর তথ্য চায় দুদক। এর প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১৬ মে অভিযুক্ত রফিক তার সম্পদ বিবরণী দুদকে দাখিল করেন।

এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার নিজ নামে ১৯টি দলিল মূলে ক্রয়কৃত গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুকতাইল মৌজায় মোট ২৫২ দশমিক শূন্য ৪ শতক কৃষি জমি (মূল্য ১২ লাখ ৫০ হাজার ৯২৫ টাকা) স্থাবর সম্পদ এবং উপহার হিসেবে পাওয়া ৯০ ভরি সোনার অলঙ্কার ও বিভিন্ন মালমাল ক্রয় বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার ৫শ’ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। অর্থাৎ তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমান দেখিয়েছেন ১৫ লাখ ১ হাজার ৪২৫ টাকা। কিন্তু দুদক অনুসন্ধানকালে সাবেক টিএসআই রফিকের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৭০ হাজার ৫শ’ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। যা তিনি নিজ দখলে রেখে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

অপরদিকে সাবেক টিএসআই রফিকের স্ত্রী ঝর্না ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় দুদক উল্লেখ করেছে, অভিযুক্ত ঝর্না ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণে অবৈধ সম্পদ উপার্জনের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে দুদক কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন।

এতে দেখা যায়, ঝর্না ইয়াসমিন নিজ নামে গোপালগঞ্জে ১টি বাড়ি, যশোর পৌর এলাকায় ২টি বাড়ি ও দোকান, রাজশাহীতে ১টি বাড়ি ও ঢাকার সেন পাড়ায় ১টি ফ্ল্যাট, ১২টি দলিল মুলে ক্রয়কৃত ৪২৯ দশমিক ৫৪৪ শতক জমিসহ মোট ২ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৬৭৯ টাকার স্থাবর সম্পদ (যার মধ্যে জমির মূল্য ১ কোটি ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭ টাকা এবং স্থাপনা নির্মাণে বিনিয়োগ ৭৮ লাখ ২৫ হাজার ৫৪২ টাকা) থাকার তথ্য এবং বিভিন্ন মালামাল ক্রয় বাবদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, উপহার হিসেবে পাওয়া ৯০ ভরি সোনার অলঙ্কারসহ একটি টয়োটা কার যার মূল্য ১১ লাখ টাকাসহ মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। সর্বমোট সম্পদ দেখিয়েছেন ২ কোটি ৬১ লাখ ৭২ হাজার ৬৭৯ টাকার। কিন্তু দুদকে অনুসন্ধানে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পেয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫২ টাকার। তার স্বামী অভিযুক্ত সাবেক টিএসআই রফিক পুলিশ বিভাগে কর্মরত থেকে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন করে তা স্ত্রী ঝর্না ইয়াসমিনের নামে অর্জন দেখিয়েছেন।