অভয়নগরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

0

নজরুল ইসলাম মল্লিক, অভয়নগর (যশোর)॥ টানা বৃষ্টিপাত থেমে গিয়ে আকাশে ঝলমলে রোদের দেখা মিলেছে। কিন্তু ভয়াবহ দুর্ভোগ বেড়েছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার পানিবন্দি মানুষের। বৃষ্টিপাত থেমে গেলেও কমছে না আবদ্ধ পানি। আগেই বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের, তলিয়ে গেছে বসতভিটাসহ ফসলি ক্ষেত। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ। স্কুল- কলেজের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন শ শ পরিবার।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কোটা, বেতভিটা, বলারাবাদ, আন্ধা, ডুমুরতলা, সরখোলা, দিঘলিয়া, ভাটাডাঙ্গিসহ অধিকাংশ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে দূষিত পানি পান করে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশিরভাগ নারী ও শিশুরা। তাছাড়া পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে পানিবন্দি গ্রামে।

এদিকে ভবদহের বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকারঘাটের চমরডাঙ্গা এলাকায় বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার খবরে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা দিয়ে নতুন বাঁধ তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলার ফকিরহাট গ্রামের বারান্দি এলাকার বাসিন্দা অধ্যাপক ইমাদ উদ্দিন গাজী বলেন, অভয়নগরের নি¤œাঞ্চল আগেই প্লাবিত হয়েছে। তবে এখন যে পানির চাপ তাতে পায়রা ইউনয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে। ভবদহের বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাৎক্ষণিক এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে তা মেরামত করা হয়েছে। যদি ভবদহের বাঁধ ভেঙে যায় তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বারান্দি, ফকিরহাট, পায়রা, সমসপুর, দামুখালী ও দত্তগাতি গ্রামের সাধারণ মানুষ।

উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের সমসপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, আপাতত বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ মেরামাত করা হয়েছে। তবে প্রতিনিয়ত যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিরামপুরের ডাকুরিয়া গ্রামের মধ্যে দিয়ে যশোরের উঁচু অঞ্চলের পানি নেমে ভবদহ এলাকায় এসে জমা হচ্ছে। তবে তুলনামূলক পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়দেব চক্রবর্তী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া পানিবন্দি মানুষকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সামগ্রী সহায়তা করেছি। নতুন এলাকায় যেন পানি প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে উপজেলা প্রশাসন নজর রেখেছে। ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান কল্পে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।