ফকিরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

0

ফকিরহাট (বাগেরহাট)সংবাদদাতা॥ বাগেরহাটের ফকিরহাটে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলছে। ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৭ জনসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন অর্ধশত রোগী। চিকিৎসকরা বলছেন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রচুর সংখ্যক জ্বরে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। শুধুমাত্র জটিল রোগীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়ে থাকে। এছাড়া অনেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে খুলনার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ায় প্রকৃত রোগীর সংখ্যা জানা যাচ্ছে না।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরআগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছেড়েছেন আরো দুজন। আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় সাধারণ রোগীদের সাথে ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হয়েছে। হাসপাতালের চারপাশে এক সপ্তাহ আগের বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এসব পানিতে প্রচুর মশার লার্ভা দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানার পেছনের ড্রেন ভরাট করে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ হয়ে গিয়ে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ পানি অপসারণে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও কোন সমাধান করতে পারেনি বলে জানান পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

ডেঙ্গু রোগী বিউটি আক্তার ও মুস্তাকীম বিল্লাহ জানান, তাদের পরিবারের সবাই জ¦রে আক্রান্ত। তারা বেশি অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে টেস্ট করার পর ডেঙ্গু হয়েছে বলে জানতে পারেন।

ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বহির্বিভাগে আসা জ¦রে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু টেস্টে অনিহা রয়েছে। পরীক্ষার পরিমাণ বাড়লে রোগীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মো. মফিদুল ইসলাম জানান, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে ২৫০ টাকায় ডেঙ্গু টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। বেসরকারিভাবে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৫০ টাকায় টেস্টের রেট নির্ধারণ করেছে সরকার। ভর্তি হওয়া রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই। সর্বপ্রথম এডিস লার্ভা জন্মানোর উৎস বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।