বাঘারপাড়ার সাবেক ইউপি সদস্যকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি সাবেক এমপি রণজিৎ, এসপি আনিসসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৮ বছর আগে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু ইসাকে তুলে নিয়ে টাকা দাবি এবং অঙ্গহানি করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার আমলী আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়, সাবেক পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ও সাবেক ওসি ছয়রুদ্দীন আহমেদসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল অভিযোগের তদন্ত করে আগামী ১৮ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডি যশোর জোনের বিশেষ পুলিশ সুপারকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী মো. রুহিন বালুজ।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক এসআই হান্নান শরীফ, কনস্টেবল আবু তালেব, থানার সাবেক এসআই এস কে আই সোহাগ, খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক এএসআই মাসুদুর রহমান, এএসআই শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সেলিম হোসেন, আবু সাঈদ, মাহাবুব আলম, উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের মফেজ গাজীর ছেলে ইউনুস, মৃত খালেক বিশ্বাসের ছেলে বাকু বিশ্বাস ও কৃষ্ণনগর গ্রামের বদর মন্ডলের ছেলে সালাম মন্ডল।

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১০ জুন রাত ১০টার দিকে আসামি ওসি ছয়রুদ্দীন আহম্মেদের হুকুমে এবং আসামি রণজিৎ রায়, ইউনুস, বাকু বিশ্বাস ও সালাম মন্ডলের মদদে আসামি এসআই হান্নান শরীফ, কনস্টেবল আবু তালেব, এসআই এস কে আই সোহাগ, এ এস আই মাসুদুর রহমান, এএসআই শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সেলিম হোসেন, আবু সাঈদ ও মাহাবুব আলম নলডাঙ্গা গ্রামে আবু ইসার বাড়িতে আসেন। এ সময় তারা তাকে সেখান থেকে ধরে বাঘারপাড়া থানায় নিয়ে যান।

পরে রাত ১১টার দিকে আবু ইসার ছেলে আফজাল থানায় গেলে ওসি ছয়রুদ্দীন আহম্মেদ তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার পিতা আবু ইসাকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ফলে পিতার প্রাণ বাঁচাতে ২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ফের থানায় গিয়ে ওসি ছয়রুদ্দীন আহম্মেদকে দেন আফজাল। কিন্তু আরও ৮ লাখ টাকা দিতে না পারায় আফজালকে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন ওসি ছয়রুদ্দীন আহম্মেদ। এরপর দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে আবু ইসাকে উপজেলার তেলিধান্যপাড়ার আরিফের ইটভাটার পশ্চিম পাশে নিয়ে যায় পুলিশ।

সেখানে ওসি ছয়রুদ্দীন আহম্মেদের নির্দেশে এসআই এস কে আই সোহাগ আবু ইসার ডান পায়ের হাটুর নিচে গুলি করেন। পরে ওই রাতেই গুরুতর আহত আবু ইসাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের নির্দেশে আবু ইসামে ঢাকার জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

সেখানে চিকিৎসার নামে তার ডান পায়ের হাটুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়। কিন্তু সেই সময় পুলিশের হুমকির কারণে মামলা করতে পারেননি আবু ইসা। বর্তমানে পরিবেশ অনুকুলে হওয়ায় তিনি আদালতে এই মামলা করেছেন।