এমএম কলেজে ছাত্রাবাসে যুবক হত্যায় মামলা ফন্টু বিপুল শাহী জিসান মিলনসহ আসামি ১০

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৮ বছর আগে যশোর সরকারি এম এম কলেজের আসাদ হলে কামরুজ্জমান শুকুর ওরফে বাবু নামে এক যুবককে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগে বুধবার আদালতে মামলা করেছেন নিহতের পিতা মতিয়ার রহমান।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, সাধারণ সম্পাদক ছাল ছাবিল আহমেদ জিসান, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল ও যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ জাহিদ হোসেন মিলনসহ ১০ জনকে ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ৭ কার্যদিবসে মধ্যে দাখিলের জন্য কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, সদর উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু, শহরের খড়কি শাহ আব্দুল করিম সড়কের মোহাম্মদ জহিরের ছেলে তৌহিদ, খড়কি হাজাম পাড়ার বর্মন, মিশন পাড়ার রাজা মিয়ার ছেলে রাজিব, শার্শা উপজেলার সাড়াতলা গ্রামের রাশেদ ও মাগুরা শালিখা উপজেলার নাগোসা গ্রামের নুর ইসলাম নাহিদ।

শহরের খড়কি সার্কিট হাউজ পাড়ার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে কামরুজ্জামান শুকুর (৩০) ব্যবসা বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। উল্লিখিত আসামিরা প্রায় রাতে সরকারি এম এম কলেজের আসাদ হলে মদ, ফেনসিডিল ও ইয়াবা সেবনের আসর বসাতেন। এ জন্য তারা মাঝে মধ্যে কামরুজ্জামান শুকুরকে মাদকদ্রব্য সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এনে দিতে বলতেন। কিন্তু কামরুজ্জামান শুকুর এসব কাজ করে দিতে অস্বীকার করেন। এ কারণে আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর বিকেল ৫টার দিকে ছাল ছাবিল আহমেদ জিসান তাকে ডেকে আসাদ হলে নিয়ে যান। এরপর সেখানে আসামি শেখ জাহিদ হোসেন মিলন ও তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর হুকুমে অন্য আসামিরা লোহার রড, পেপসির বোতল এবং জিআই পাইপ দিয়ে কামরুজ্জামান শুকুরকে মারধর করেন।

আসামি রওশন ইকবাল শাহী লোহার রড দিয়ে তার দুই পায়ের হাটুতে আঘাত করেন এবং ড্রিল মেশিন দিয়ে ডান পায়ের হাটুর ওপরে ছিদ্র করে দেন। আসামি নুর ইসলাম নাহিদ ও বর্মন প্লাইস দিয়ে কামরুজ্জামান শুকুরের হাত ও পায়ের নোখ উপড়ে ফেলেন। এছাড়া অন্য আসামিরা তাকে মারধর করেন।

উল্লিখিত আসামিরা এভাবে কামরুজ্জামান শুকুরের ওপর নির্যাতন চালিয়ে এবং তাকে মৃত ভেবে সেখানে ফেলে রেখে চলে যান। পরে এ খবর পেয়ে কামরুজ্জামান শুকুরের পিতা মতিয়ার রহমান আসাদ হল থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। একই বছরের ১২ নভেম্বর রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কামরুজ্জামান শুকুর।

পরে এ ঘটনায় মতিয়ার রহমান কোতয়ালি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ গ্রহণ করেনি। তাছাড়া আসামিদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি আদালতেও মামলা করতে সাহস পাননি। বর্তমানে পরিবেশ অনকুলে হওয়ায় ছেলেকে হত্যার অভিযোগে তিনি আদালতে এই মামলা করেছেন।