অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল : জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরমে

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ গত ২৪ ঘণ্টার অবিরাম বৃষ্টিতে বাগেরহাট জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলজুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
টানা বৃষ্টিতে জেলার মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, মোংলা, রামপাল ও কচুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানিতে অনেকের মাছের ঘের ভেসে গেছে মাছ। শুক্রবার গভীর রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার দুপুরে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী রোড, রেল রোড, সাধনার মোড়, শালতলা, পিটিআই মোড়, খারদার স্কুল রোড, জেলা হাসপাতাল মোড়, জেলা ডাকঘরের সামনে, বাসাবাটি, মিঠাপুকুরপাড় মোড়, পৌরসভার পাশে, জাহানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পেছনসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে পানি উঠে গেছে। সড়কে পানি জমে থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। পানিবন্দি পরিবারগুলো এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।
এদিকে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও কচুয়ার বেশকিছু এলাকায় মৎস্যঘের ডুবে মাছ বের হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টি আরো দু-একদিন স্থায়ী হলে এসব এলাকার বেশিরভাগ ঘের ডুবে যাবে বলে আশঙ্কা মাছ চাষিদের। বাগেরহাট মিঠাপুকুরের কচুরিপানা ভেসে আসছে পাকা সড়কে ও বাসাবাড়িতে । তরিকুল ইসলাম নামের এক ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাগাতার বৃষ্টিতে পৌর শহরের প্রায় সকল অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আমলাপাড়ার সড়কের বাসিন্দা গৃহবধূ মমিতা জানান, বসত ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় শনিবার রাতে শুকনা খাবার খেতে হয়েছে। বাগেরহাট শহরের রিকশাচালক রবিউল ইসলাম বলেন, দুই দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিতে খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। সকাল থেকে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার পরেও,বাধ্য হয়ে রিকশা নিয়ে বেরিয়েছি।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বিরুনী বলেন, পশুর নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে তাহলে নদীর পানি আরও বৃদ্বির সম্ভাবনা রয়েছে।