বন্যার অজুহাতে যশোরে চালের কেজিতে বাড়ল ৪ টাকা

0

 

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। যশোরে চালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে খামারের মুরগির ডিমের দাম বেড়ে আর কমেনি। পেঁয়াজের কেজিতে বেড়েছে আরও ১০ টাকা। অপরিবর্তিত রয়েছে সবজির দাম। ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে চাল ও ডিমের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বন্যার অজুহাতে এসব পণ্যের দাম ইচ্ছেমত বাড়িয়ে অধিক মুনাফা লুটে নিচ্ছে।
সপ্তাহখানেক আগে উজানের পানি ও ভারী বর্ষণে নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগামসহ দেশের অন্তত ১০টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়। ওইসব এলাকার বানভাসি মানুষের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। এসব ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে বেশির ভাগ রয়েছে শুকনা খাবার। বিশেষ করে চিড়া, মুড়ি, গুড়,পাটালি, বিস্কুট ইত্যাদি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যশোরের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ বন্যা কবলিত এলাকায় বর্তমানে তেমন কোনো চাল পাঠানো হচ্ছে না। যশোরের বড় বাজার চালবাজার ঘুরে দেখা যায় পর্যাপ্ত চাল মজুত রয়েছে।
শুক্রবার বড় বাজার চালবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. ইসহাক জানান, বিআর-৪৯ ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে প্রতি কেজি ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪৯ থেকে ৫৬ টাকা। বিআর-৬৩ ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকা, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৬৪ থেকে ৬৮ টাকা। বিআর-২৮ ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা। মোটা নূরজাহান চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪৮ থেকে ৫২ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালে ২ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে বড় বাজারে খামারিরা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি পিস মুরগির ডিম ১২ টাকা ১০ পয়সা দরে বিক্রি করছেন। শুক্রবার খুচরা ব্যবসায়ী শুভ জানান, তিনি ডিম বিক্রি করছেন প্রতি পিস সাড়ে ১২ টাকা। খামারিরা গত সপ্তাহে ডিমের দাম বাড়িয়ে আর কমাননি।
বাজারে এ সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের কেজিতে আরও ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। গত সপ্তাহেও বড় বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ১১০ টাকায়। পাইকারি ব্যবসায়ী নিতাই সাহা জানান, তিনি তার আড়তে শুক্রবার পাইকারি ১০৪ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন।
বাজারে সবজির বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মজনু মিয়া জানান, তিনি গাজর ১৫০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, বেগুন ৯০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা,কাকরোল ৮০ টাকা, করোলা ৭০ টাকা, মুখিকচু ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পটল ৩০ টাকা ও লাউ প্রতি পিস ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
বাজারে ক্রেতা হাবিবুর রহমান জানান, যশোরে এখনও অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সক্রিয় রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ হিসেবে শুকনা খাবার যাচ্ছে, অথচ সুযোগ সন্ধানি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এই অজুহাতে প্রতি কেজি চালে অন্তত ৭টাকা বাড়িয়ে মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ডিমের ব্যাপারেও একই অবস্থা । খামারিরা ইচ্ছেমত ডিমের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছেন। তিনি প্রশাসনকে শক্ত হাতে এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।