ঝিনাইদহে কলেজের পলাতক অধ্যক্ষের দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত হবে

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাসকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে। এদিকে অধ্যক্ষ বাদশা আলম হাসিনা সরকারের পতনের পর পালিয়েছেন। তিনি কলেজে আসছেন না। শোনা যাচ্ছে কলেজ ফান্ডের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলম এক সময় ঝিনাইদহ সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকের কাজ করতেন। দলিল লেখকদের তালিকায় এখনও তার নাম রয়েছে। তিনি ঝিনাইদহ ডিগ্রি কলেজের প্রথমে প্রভাষক ও পরে এক বছরের জন্য ভাইস প্রিন্সিপাল হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষের পদ দখল করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, অধ্যক্ষ পদে আসার আগে তিনি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করলেও আরাপপুর এলাকায় এখন তার দুইটি আলীশান বাড়ি। যার মধ্যে একটি পাঁচতলা ও একটি চারতলা বাড়ি। বাড়ি দুইটির আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি টাকা হবে বলে তার প্রতিবেশীরা দাবি করেন। বেসরকারি কলেজের একজন অধ্যক্ষের এমন দুইটি আলিশান বাড়ি কিভাবে হলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ১৩ বছর অধ্যক্ষ হওয়ার সুবাদে তিনি কলেজের কয়েক কোটি টাকা পকেটস্থ করেছেন। কলেজে ভর্তির সময় নেওয়া টাকার কোনো হিসাব নেই। লাইব্রেরি ফান্ডে টাকা নেওয়া হলেও বই কেনা হয় না। শিক্ষার্থীদের আইডি বাবদ ভর্তির সময় টাকা নেওয়া হয়, কিন্তু আইডি দেওয়া হয় না। ভর্তির সময় বিজ্ঞানাগারের জন্য টাকা কেটে রাখা হলেও গত ১৩ বছরে কোনো যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি। আইসিটি ও কৃষি শিক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষায় বাধ্যতামূলকভাবে ৩০০ টাকা করে আদায় করেন অধ্যক্ষ বাদশা আলম। অনার্স লেভেলে ইনকোর্স পরীক্ষার নামে প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে ৭০০ টাকা করে আদায় করেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। অনার্স ফাইনাল ইয়ারে ভাইভা পরীক্ষার নামে ছাত্র প্রতি ২০০০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। এ নিয়ে ২০২৩ সালে ছাত্রলীগ কলেজে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করলেও অধ্যক্ষ বাদশা আলম এখনও টাকা আদায় অব্যাহত রেখেছেন। কলেজে প্রতিটি নিয়োগে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য করা হয়েছে। খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়ার শিক্ষকরা নিয়মিত কলেজ করেন না। এ জন্য তাদের প্রতি মাসে অধ্যক্ষকে মাসোহারা দিতে হয়। ডিগ্রি ও উন্মুক্ত পরীক্ষায় নকল সরবরাহের জন্য কলেজের মালি আসলামের মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন অধ্যক্ষ বাদশা আলম। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তির সময় উন্নয়ন বাবদ টাকা আদায় করা হলেও ১৩ বছরে কলেজের ফান্ড থেকে দৃশ্যত কোনো উন্নয়ন করা হয়নি।
এসব বিষয়ে অধ্যক্ষ বাদশা আলমের কাছে মোবাইল ফোনে কল করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তার অফিসে গিয়ে জানা যায় শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাস বুধবার দুপুরে জানান, অধ্যক্ষ বাদশা আলমের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে তিনি তদন্ত করবেন। তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।