বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ নেতা অধ্যাপক মর্জিনা আক্তার যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান পদে বহাল তবিয়তে

0

স্টা রিপোর্টার ॥ বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের মনোনীত প্রার্থী হয়ে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট একাডেমিক কাউন্সিল থেকে সিন্ডিকেট সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করেছিলেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মর্জিনা আক্তার। গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে তিনি ১৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন দলবাজ মর্জিনা আক্তার।
সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দাপটশালী এ শিক্ষক নেতা অধ্যাপক মর্জিনা আক্তার যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ছিলেন। এরপর ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে তাকে যশোর সরকারি এমএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন হয় তার। এরই মাঝে ২০২২ সালে এমএম কলেজের অধ্যক্ষ পদটি শূন্য হলে ওই বছরের ৮ মার্চ তাকে একই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ৩০ মে তাকে যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিনি আওয়ামী সরকারের অনুগত হিসেবে এসব পদ লাভ করেন।
অভিযোগ রয়েছে,সরকারি এমএম কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি কলেজে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। বিশেষ করে সে সময়ের সরকার দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উস্কানি দিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ করে দেয়। এ সময়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কয়েক দফা হামলা-নির্যাতনের শিকার হলেও কলেজ অধ্যক্ষের কাছে বিচার চেয়ে তারা কোনো বিচার পাননি।
এ বিষয়ে যশোর সরকারি এমএম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ হাসান ইমাম বলেন, অধ্যাপক মর্জিনা আক্তার এমএম কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মতো আচরণ করতেন। তার আমলে কলেজে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রকাশ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর কয়েক দফা হামলা করলেও তিনি কোনো প্রতিকার নেননি। এমনকি তার আমলে আমরা কলেজে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীও পালন করতে পারিনি। শিক্ষকদের সামনে ছাত্রলীগ আমাদের ওপর বর্বর হামলা করলেও দলবাজ এই অধ্যক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে গণঅভুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের শিক্ষক পরিষদের নেতা মর্জিনা আক্তারের যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে থাকা নিয়ে গণতন্ত্রকামী ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বিগত ১৬ বছরে যারা বোর্ডে অবহেলিত, উপেক্ষিত ছিলেন এমন সব কর্মকর্তা-কর্মচারী খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তার অপসারণে আন্দোলনে নামবে বলে জানিয়েছেন।
বোর্ডের কর্মচারীদের একটি পক্ষের দাবি মর্জিনা আক্তার বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের একজন সক্রিয় নেতা। শেখ হাসিনার পতনের পর তার মতো আওয়ামীবাজ একজন চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। এজন্য তারা তার পদত্যাগের দাবিতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আন্দোলনে যাবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মর্জিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।