মনিরামপুরে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ৭

0

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর (যশোর) ॥ মনিরামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের এক এএসআইসহ সাতজন আহত হয়েছেন। গত শনিবার দুপুরে সংঘর্ষের পর একে অপরকে দোষারোপ করে। ওই দিন রাতে এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় দু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে শনিবার দুপুরে দুস্থ রোগীদের মাঝে চেক বিতরণের আয়োজন করা হয় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এসএম ইয়াকুব আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ ঘোষ, থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মেহেদী হাসান। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান অতিথি এসএম ইয়াকুব আলীর বক্তব্যের শুরুতেই মিলনায়তনের বারান্দায় এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে আহত হন এমপি গ্রুপের উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম বাপ্পী হুসাইন, আবু সালেহ, রিয়াদ হোসেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের রনি হোসেন ও পরশ হোসেন। পরবর্তিতে বিক্ষুব্ধরা মিলনায়তনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশের (ডিএসবি) এএসআই ফিরোজ হোসেন এবং এমপির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এসআই শহিদুল ইসলামকে মারধর হয়। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় সংসদ সদস্য এসএম ইয়াকুব আলী অভিযোগ করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলুর উস্কানিতে তার ভাই শ্রমিকলীগ নেতা বাবুল করিম বাবলুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের মারধর করে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু জানান, মিলনায়তনের বারান্দায় হট্টোগোলের শব্দ পেয়ে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে গিয়ে সকলকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন অনাকাঙ্খিত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর এ ঘটনায় শনিবার রাতে একে অপরকে দোষারোপ করে এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে। মনিরামপুর থানার ওসি মেহেদী মাসুদ জানান, অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।