কপিলমুনিতে কুয়াশার কারণে আমের মুকুল ভালো হয়নি

0

এইচএম শফিউল ইসলাম,কপিলমুনি (খুলনা)॥ পাইকগাছার কপিলমুনিসহ আশপাশের এলাকায় আম গাছে আশানুরুপ মুকুল না হওয়ায় আমচাষি বাগান মালিকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে আমের মুকুল বের হতে দেরি হচ্ছে বলে জানায় কৃষি অফিস।
পাইকগাছাসহ উপকূল এলাকায় চলতি বছর অনেক দেরিতে আম গাছে মুকুল বের হওয়া শুরু হয়েছে। অধিকাংশ গাছের মুকুল ছোট ও চিকন হয়েছে। কোন গাছের একটি- দুইটি ডালে মুকুল বের হয়েছে। আর বাকি ডালে মুকুল হয়নি। অনেক গাছে কোন মুকুলই বের হয়নি। তবে কিছু কিছু গাছে প্রচুর পরিমাণ মুকুল বের হয়েছে।
পাইকগাছার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ও পৌরসভা ছাড়া বাকি ইউয়িনগুলোতে সীমিত আমের গাছ রয়েছে। উপজেলায় ৫৮৫ হেক্টর জমিতে মোট আম গাছ রয়েছে। গাছের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। কিছু কিছু পরিকল্পিত আম বাগান রয়েছে। এসব বাগানে সর্বনিন্ম ১০টি গাছ রয়েছে। কারো কারো ৫ শতক, ১০ শতক, ১ বিঘা ও ৩ বিঘা পর্যন্ত আমের বাগান রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়ানো -ছিটানো আমগাছ আছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এসব বাগানের ৫০/৬০ ভাগ গাছে মুকুল ধরেছে। অধিকাংশ গাছের মুকুল ছোট ও চিকন হয়েছে। কোন গাছের একটি দুইটি ডালে মুকুল বের হয়েছে। আর বাকি ডালে মুকুল হয়নি। অনেক গাছে কোন মুকুলই বের হয়নি। ৪০ ভাগ আম গাছে কোন মুকুল বের হয়নি। তবে আরো কিছু গাছে মুকুল বের হতে পারে এমন আশা করছেন চাষি ও বাগান মালিকরা।
উপজেলার কপিলমুনি,গদাইপুর, হরিঢালী, রাড়ুলী, পৌরসভা, চাঁদখালীসহ বিভিন্ন এলাকা আম বাগানের গাছে মুকুল ভালো হয়নি। এমনই চিত্র দেখা গেছে।
গদাইপুরের আমচাষি মোবারক ঢালী বলেন, বাগানের আম গাছে মুকুল আসা শুরু করেছে।আমরা কৃষি বিভাগে গিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করছি। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা আমের বাগান ভাল রাখার জন্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসিম কুমার দাশ জানান, পাইকগাছায় ৬০/৭০ ভাগ গাছে মুকুল চলে এসেছে। চাষিদের ফুল ফোটা অবস্থায় কোন ওষুধ বা কীটনাশক ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ সময়ে বাগানে আমের শোষক বা হোপার পোকাগুলো গাছের বাকলে লুকিয়ে থাকে। এ ধরনের পোকা খুব বেশি দেখা দিলে অনুমোদিত কীটনাশকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।