কোটচাঁদপুরে লাখ লাখ টাকার সরকারি গাছ মেরে ফেলার অভিযোগ

0

 

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ সরকারি রাস্তার দু ধারের বড় বড় মূল্যবান গাছ বিভিন্ন কৌশলে মেরে ফেলা হচ্ছে। নিজেদের সামান্য লাভের জন্যে সরকারের লাখ লাখ টাকার গাছ ধ্বংস করছে রাস্তার পাশের জমি মালিকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ অবস্থা। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে গাছ ধ্বংসের এমন চিত্র। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও এলজিইডি’র সড়কের দু ধারে সরকারিভাবে লাগানো সারিবদ্ধ বড় বড় কাঠের গাছ বিভিন্ন উপায়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। জমির মালিকরা রাতের অন্ধকারে গাছের গোড়ায় আগুন ধরিয়ে বা গাছের গোড়া গোল করে ছাল তুলে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছে। ফলে গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। পরে এলাকার গাছ খেকো দুর্বৃত্তরা অল্প অল্প করে ডালপালা কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। শেষে রাতের আঁধারে গাছের গুঁড়িও গায়েব হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই সরকারের লাখ লাখ টাকার মূল্যবান কাঠ জাতীয় গাছ ধ্বংস করছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোটচাঁদপুর-জীবননগর মহাসড়কের বেশকিছু বড় গাছ (কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাহাজ্জেল হোসেন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সামনের সড়ক) কোটচাঁদপুর পৌরসভার দেওয়া আগুনে প্রকাশ্যে দিনের পর দিন জ্বলছে। গাছের গোড়ায় পৌরসভার ফেলা আবর্জনার স্তুপে দেওয়া আগুনে ইতোমধ্যেই বেশকিছু গাছ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখনো বেশকিছু গাছ জীবন্ত পুড়ছে। অথচ দেখার কেউ নেই। এ ছাড়াও কোটচাঁদপুর-সাবদারপুর সড়ক, কোটচাঁদপুর-তালসার সড়ক, কোটচাঁদপুর-জালালাপুর সড়ক, কোটচাঁদপুর-গুড়পাড়া সড়ক, গুড়পাড়া-গান্না সড়ক, সাবদারপুর-তালসার সড়কের অধিকাংশ গাছ এভাবেই মেরে ফেলা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকেই বলেছেন- রাস্তার পাশের গাছের কারণে পাশের জমিতে ছায়া ও পাতা পড়ে। যে কারণে ওই অংশে তেমন ফসল হয় না। তাই জমি মালিকরাই কৌশলে গাছ মেরে ফেলছেন। এ ব্যাপারে ঝামেলা এড়াতে পাশের জমি মালিকরা সাংবাদিকদের কাছে কিছু বলতে নারাজ।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর, কালিগঞ্জ ও মহেশপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আগুন দিয়ে বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে গাছ মেরে ফেলার মহাউৎসব দীর্ঘদিন ধরে চলছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমার করার কিছুই নেই। রাস্তার পাশের ওই গাছ দেখভাল করার দায়িত্ব আমাদের না। ওই গাছ দেখভাল করে থাকে জেলা পরিষদ। বনায়ন কর্মসূচির আওয়তায় যে গাছ রয়েছে তার দায়িত্ব আমাদের। তবে তারা আমাদের সহযোগিতা চাইলে নিতে পারে।
কোটচাঁদপরের পৌরমেয়র সহিদুজ্জামান সেলিম বলেন- পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন জায়গা নেই। তাই সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার পাশের নিচু জায়গাতে ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সরকারিভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জায়গা করে দিতো তাহলে পৌরবাসী উপকৃত হতো।
জেলা পরিষদের চেয়াম্যান হারুন অর-রশিদ বলেন- এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা । এটা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উছেন মে বলেন- আমি বিষয়টি শুনলাম। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বিষয়টি জানিয়ে দেব। তারাই ব্যবস্থা নেবেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুননেছা মিকি বলেন- রাস্তার গাছ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মেরে ফেলার বিষয়টি আমি শুনেছি বা মরা গাছও রাস্তার পাশে দেখেছি। এটা করছে রাস্তার পাশের জমি মালিকরা। কেননা জমির পাশে বড় গাছ থাকলে গাছের ছায়ার কারণে জমিতে ফসল হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আমলে নেওয়া উচিৎ ।