মোংলায় লাইটেড বয়া চুরির ঘটনায় তোলপাড়

0

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ মোংলা বন্দরে আবারও সক্রিয় হচ্ছে শক্তিশালী চোরাই সিন্ডিকেট। এই চক্র বন্দরে অবস্থানরত বিভিন্ন জাহাজ থেকে তেলসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করার পর এবার নেমেছে নৌযান চলাচলে সাহায্যকারী লাইটেড (নেভিগেশন) বয়া চুরির কাজে। সম্প্রতি প্রভাবশালী একটি চোরাই সিন্ডিকেট স্যালভেজ কোম্পানির ডুবন্ত রেক (নৌযান) উত্তোলন কাজের অন্তরালে লাখ লাখ টাকার এ লাইটেড বয়া লোপাট করে কালো বাজারে পাচার করে দিয়েছে। বন্দরের আউটার বার চ্যানেল এলাকায় ওই লাইটেড বয়া মিসিং হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ জানায়, লাইটেড বয়া একটি চ্যানেলের বামপাশ বা বিপদের অবস্থান চিহ্নিত করে। এই বয়া দেখেই মূলত বিদেশি জাহাজ নিরাপদে বন্দরে প্রবেশ করে। যদি এই বয়া না থাকে তাহলে জাহাজ ও নৌযান চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। মোংলা বন্দরের চ্যানেলে নির্বিঘেœ জাহাজ চলাচলের বর্তমানে ৪৯টি লাইটেড বয়া রয়েছে। যার এক একটির দাম ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। একটি সংঘবদ্ধ চোরাই সিন্ডিকেট মাঝেমধ্যে এসব লাইটেড বয়বসহ এর যন্ত্রাংশ চুরি বা লোপাট করে এনে কালোবাজারে বিক্রি করে।
সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বন্দরের আউটার বার চ্যানেল এলাকায় ডুবন্ত রেক তোলার নামে একটি স্যালভেজ কোম্পানির অন্তরালে অসাধু চক্রের লোকজন যায়। সেখানে পানির নিচ থেকে ডুবন্ত জাহাজের যন্ত্রাংশ উঠানোর নামে বন্দরের লাইটেড বয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে কাটা হয়। পরে তা কৌশলে মোংলায় এনে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। এ কাজে জড়িত কয়েকজন শ্রমিকের মাধ্যমে এ তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ বলেন, আমাদের বঙ্গোপসাগরের নৌ চ্যানেলে ১০ নম্বর বয়া মিসিং আছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বলেন, লোকমুখে বয়া চুরির ঘটনা শুনেছি। তবে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।