অভয়নগরে গৃহবধূ পারুল হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন দণ্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাগদাহ পূর্বপাড়ার গৃহবধূ পারুলকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার দায়ে নিহতের স্বামী আব্দুল কালামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাজুল ইসলাম এই রায় প্রদান করেন।
অতিরিক্ত পিপি মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাজাপ্রাপ্ত কামাল হোসেন বাগদাহ পূর্বপাড়ার মৃত জামেদ আলী শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি কামাল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আলাদিপুর শিকারীপাড়ার মৃত নিজাম উদ্দীনের মেয়ে পারুলের সাথে কামাল হোসেনের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের তাদের ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে সন্তান রয়েছে। কামাল হোসেন পরে নুর বেগম নামে আরো এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাদের ছিলো অভাবের সংসার। এ কারণে পারুল কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় রাস্তার কাজ করতেন। ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি কাজের মোট ৩ হাজার টাকা মজুরি পান। এর মধ্যে ২ হাজার টাকা তিনি স্বামীকে দেন এবং বাকি ১ হাজার টাকা মৃত পিতার রুহের মাগফিরাত কামনার জন্যে দোয়া মাহফিল করতে রেখে দেন। মৃত পিতার রুহের মাগফিরাত কামনার জন্যে দোয়া মাহফিল করতে ১ হাজার টাকা রেখে দেয়ায় ওইদিন রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এ সময় কামাল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাড়ির পাশের পুকুরে পারুলকে চুবিয়ে হত্যা এবং লাশ নারিকেল গাছের শিকড়ের ফাঁকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখেন। পরদিন সকালে পারুলকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি মোনছের সরদার ২৫ জানুয়ারি দুই জনকে আসামি করে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন, কামাল হোসেন ও তার ভাই আব্দুস সালাম। পরে তদন্ত কর্মকর্তা অভয়নগর থানা পুলিশের এসআই ইখতেয়ার হুসাইন আসামি কামাল হোসেনকে অভিযুক্ত এবং আসামি আব্দুস সালামের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত আসামি কামাল হোসেন স্ত্রী হত্যায় আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। এছাড়া ৮ জন সাক্ষি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলায় আসামি কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে উল্লিখিত সাজা প্রদান করেন।