চৌগাছায় দুই ভাইকে খুনের মামলা দু’ভাইয়ের ফাঁসি, আরেক ভাই ও তার স্ত্রীর যাবজ্জীবন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার টেঙ্গুরপুরে দুই ভাইকে নৃসশংভাবে হত্যার দেড় বছর পর মামলার রায়ে ২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সাথে মামলার অপর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার আসামিদের উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. তাজুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন, টেঙ্গুরপুর গ্রামের আবজেল খানের দুই ছেলে বিপ্লব খান বিপুল ও মুকুল খান। অপরদিকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, আবজাল খানের অপর ছেলে বিল্লাল খান ও বিল্লাল খানের স্ত্রী রূপালী বেগম। রায় ঘোষণার পর বিচারক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলা ও পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা যায়, টেঙ্গুরপুর গ্রামের নিহত আয়ুব হোসেন খান ও ইউনুচ আলী খান দুই ভাই এলাকার ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ছিলেন। আসামি বিপ্লব খান বিপুল ও মুকুল খান এক সময় নিহত আয়ুব হোসেন খানের কৃষি জমিতে ও ইউনুচ আলী খানের কাঠগোলায় দিনমজুরের কাজ করতেন। পরবর্তীতে আসামি মুকুল খান টেঙ্গুরপুর মোড়ে নিহতদের জমিতে চা-পানের দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। এরই মধ্যে আসামিরা বিভিন্ন সময় নিহতের ক্ষেত হতে কারোর অনুমতি না দিয়ে সবজি, ফলমুল এবং জ্বালানি কাঠ নিয়ে যেতেন। আসামিদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা অস্বীকার করতেন। এছাড়া আসামিরা নিহতের জমির ওপর দিয়ে এলোমেলো চলাফেরা করায় তাদেরকে নিষেধ করা হয়। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ আসামি বিপ্লব খান বিপুল সময়মত ও সঠিকভাবে কাজকর্ম না করায় ঘটনার কয়েকদিন আগে তাকে কাঠগোলা থেকে বের করে দেন নিহত ইউনুচ আলী খান। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল রাত পৌনে ১০টার দিকে দিনমজুরের কাজ এবং মজুরি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আয়ুব হোসেন খান ও আসামি বিপ্লব খান বিপুলের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে বিপ্লব খান বিপুল রেগে গিয়ে আয়ুব আলী খানকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এরপর আয়ুব হোসেন খান বড়িতে গিয়ে তার ছেলে আসাদুজ্জামান রনি ও ভাই ইউনুচ আলী খানকে বিষয়টি জানান। পরে আয়ুব হোসেন খান তার ছেলে আসাদুজ্জামান রনি ও ভাই ইউনুচ আলীকে নিয়ে আসামি মুকুল খানের চায়ের দোকানে আসেন প্রতিবাদ জানাতে। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উল্লিখিত আসামিরা এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে আয়ুুব হোসেন খান, ইউনুস আলী ও আয়ুব হোসেন খানের ছেলে আসাদুজ্জামান রনি গুরুতর জখম করেন।পরে আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আয়ুব হোসেন খান ও ইউনুচ আলী খানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল নিহত আয়ুব হোসেন খানের মেয়ে সোনিয়া খান উল্লিখিত চারজনের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তাদেরকে আটক করে এবং আসামি মুকুল খান ও বিপ্লব খান বিপুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে উল্লিখিত ৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন চৌগাছা থানা পুলিশের ইনসপেক্টর ইয়াছিন আলম চৌধুরী । ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে উল্লিখিত সাজা প্রদান করেন আদালতের বিচারক।
এদিকে রায়ের পর আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন আসামির স্বজনরা। মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত মুকুল খানের স্ত্রী জলি বেগম দাবি করেন, তারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা এ রায়ের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।