চৌগাছায় সরকারি বাঁওড়ের জমি দখল করে ফসল চাষ

0

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছায় সরকারি মর্জাদ বাঁওড়ের জমি প্রভাবশালীরা যে যারমত দখল করছেন। বাঁওড় ধারের জমি দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা বাঁওড়ের শুকনো জমি দখল করে ট্রাকটর দিয়ে চাষ করছেন। বাঁওড়ের শ শ বিঘা জমি দখল করে নিচ্ছেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এসব সরকারি জমি দখল নিয়ে ফসল চাষ করায় গোচারণভূমি নষ্ট হচ্ছে। চারণভূমি নষ্ট হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার গরু-মহিষ ও ছাগল পালনকারী সাধারণ জনগণ। এই জমি দখল প্রতিরোধে প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হায়াতপুর গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দীন প্রথমে জমি দখল শুরু করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউপি সদস্য জসিম উদ্দীনই প্রথম বাঁওড়ের জমি দখল করে ফসল চাষ শুরু করেন। এর পরই বাঁওড়ের পাশের পাতিবিলা, হায়াতপুর, তেঘরি, জগদিশপুর ও হাজিপুর গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ট্রাক্টর দিয়ে বাঁওড়ের শ শ বিঘা জমি চাষ করতে থাকেন। এ নিয়ে এলাকায় প্রতিবাদ হলেও ভূমি অফিস কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর থেকেই দখল আর পাল্টা দখলে মেতে উঠেছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। যারা জমি দখল করছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হায়াতপুর গ্রামের জহির উদ্দীন, রাসেল হোসেন, পান্নু মিয়া পাতিবিলা গ্রামের আশারোফ হোসেন , টিটো হোসেন, ফারুখ হোসেন, রুহুল আমিন প্রমুখ।

এলাকাবাসী জানান, বাঁওড়ের চারপাশে রয়েছে কয়েকটি গ্রাম। এসব গ্রামের কয়েক হাজার গরু-মহিষ ও ছাগলের চারণভূমি ছিল এই বাঁওড়ের শুকিয়ে যাওয়া জমি। এই এলাকার মানুষের গরু -ছাগল পালন করতে বাড়তি খাদ্যের প্রয়োজন হতো না। বাঁওড়ের চর থেকে অধিকাংশ পশুর খাদ্যের চাহিদা পূরণ হতো। যে কারণে এই অঞ্চলের গরিব মানুষও খুব সহজেই গরু ছাগল পালন করে সংসার চালাতে পারত। কিন্তু এলাকার কিছু প্রভাবশালী মানুষ ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে দখল নিয়েছেন বাঁওড়ের শ শ বিঘা জমি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন জানান, প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কেউ এখানে আসেনি। প্রশাসন দায়সারাভাবে এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করেছে জমি দখল না নেয়ার জন্যে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
বাঁওড়ের জমি দখলদার ইউপি সদস্য জসিম উদ্দীন বলেন, আমি জমি চাষ করিনি। কিছু জমি দখল করেছি কেউ যেন চাষ করতে না পারে সে জন্যে।
হায়াতপুর গ্রামের বাসিন্দা জহির উদ্দীন বলেন, আমার অনেক কিছু আছে। আমি কেনো বাঁওড়ের জমি দখল নিতে যাব? এলাকার কেউ আমার সাথে শত্রুতা করে নাম দিয়েছে।

চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গুনজন বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।