নওয়াপাড়ায় সাবেক স্বামীর হাতে ছুরিকাহত নারীর সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর(যশোর)॥ যশোরের নওয়াপাড়ায় ‘স্বপ্ন’ সুপারশপে ছুরিকাঘাতে আহত বিক্রয়কর্মী বিথি খাতুন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মামলা তুলে নিতে বাদিসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সোমবার দুপুরে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
এ সময় বিথি খাতুন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘২০২১ সালের ২৯ মে আমার সঙ্গে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ভান্ডব গ্রামের সফিরউদ্দিন শেখের ছেলে মো. হবিরুল ইসলাম ওরফে অভির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে অভি যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। স্বামীর প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা থাকায় তার অন্যায়-অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতাম। এক পর্যায়ে তিনি আমার নামে ইসলামী ব্যাংক ভালুকা শাখায় একটি একাউন্ট খোলেন। সেই একাউন্টের চেক বইয়ে আমাকে দিয়ে জোর করে সই করিয়ে নেন।
তিনি আরও বলেন, সই করা চেক বই দেখিয়ে তিনি আমাকে দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করাতেন। কিছুদিন পর আমাকে দিয়ে আমার ভগ্নিপতি মো. তোফায়েল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করান। ধীরে ধীরে তার অত্যাচার বাড়তে থাকে। আমার পিতার মৃত্যুর পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা পিতার মরদেহ দেখতে দেননি। পরবর্তীতে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে তিনি আমাকে গৃহবন্দি করে রাখেন। খবর পেয়ে ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ভালুকা ইউপি চেয়ারম্যান আকরাম খান আমাকে উদ্ধার করেন। ঘটনা তদন্ত করে তিনি অভির সঙ্গে তালাক করিয়ে আমাকে ভাই রশিদ শেখ মিন্টুর হাতে তুলে দেন। তারপর আমার ভাই আমাকে নিয়ে অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটাগ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকে নওয়াপাড়া বাজারে ‘স্বপ্ন’ সুপারশপে বিক্রয়কর্মী হিসেবে আমি যোগদান করি।
যোগদানের পর থেকে অভি আমার কর্মস্থলে এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভালুকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আমি রাজি না হলে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে অভির নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ যুবক ‘স্বপ্ন’ সুপারশপে প্রবেশ করে এবং হত্যার উদ্দেশে অভি আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিষয়টি জানতে পেরে নূরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অভিকে তার প্রাইভেট কারসহ আটকে রেখে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের তিনি আরও বলেন, ছুরিকাঘাতের ঘটনার পরদিন আমার চাচা আনছার আলী শেখ বাদি হয়ে অভিসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গত ৩ অক্টোবর অভির ভাই রফিক, কবির, মামাতো ভাই জহির ০১৭৬২-৬৯৩৭৫১ ও ০১৮৬৫-৯২৫৭৩৭ নম্বর থেকে পুরুষ ও নারী কন্ঠে মামলা তুলে না নিলে আমার চাচা মামলার বাদিসহ পরিবারের সকলকে খুন করা হবে বলে হুমকি দেন। বর্তমানে মামলার বাদিসহ আমি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মামলার বাদি বিথি খাতুনের চাচা আনছার আলী শেখ, চাচা জাকির হোসেন, বোন লুৎফুন্নাহার লতা, চাচি শাম্মি আখতার, ভগ্নিপতি তোফায়েল হোসেন, প্রতিবেশী পল্লী চিকিৎসক শিবপদ শুভ প্রমুখ।