পুলেরহাট- রাজগঞ্জ-কেশবপুর সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর পুলেরহাট-রাজগঞ্জ ভায়া কেশবপুর সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের ৩২ কিলোমিটারের দোদাড়িয়া বাজার হতে রাজগঞ্জ বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটারে এখন ভয়াবহ অবস্থা। ফলে প্রতিদিন পথচলা মানুষ, যানবাহন ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পর থেকে সড়কটির শোচনীয় অবস্থা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পুনর্নির্মানের মাধ্যমে উপযোগী করা হবে।
যশোর শহরের সাথে যোগাযোগের জন্যে যে কয়টি আঞ্চলিক সড়ক আছে তারমধ্যে যশোর পুলেরহাট-রাজগঞ্জ ভায়া কেশবপুর সড়কটি উল্লেখযোগ্য। এই সড়ক দিয়ে দেশের মণিরামপুর, কেশবপুর উপজেলার পাশাপাশি পাশের জেলা খুলনা-সাতক্ষীরার একটি অংশের মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। খুলনা ও সাতক্ষীরা এলাকায় সহজে ও অল্প সময়ে অসংখ্য ট্রাক ও মাইক্রোবাস পণ্য ও যাত্রী নিয়ে আসা- যাওয়া করে। বিশেষ করে মণিরামপুরের রাজগঞ্জে ভাসমান সেতু গড়ে ওঠার পর থেকে সড়কটি বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমান বেহাল অবস্থার কারণে সড়ক দিয়ে যানবাহন ও মানুষের যাতায়াত কমে গেছে।
সড়কের পুলেরহাট এলাকার ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে এ সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হলেও পরবর্তীতে নিয়মিত সংস্কার করা হয়নি। যেকারণে সড়কজুড়ে ইট-বালি, খোয়া উঠে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এরমধ্যে দোদাড়িয়া বাজার হতে রাজগঞ্জ বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এখন ভয়াবহ অবস্থা। এই তিন কিলোমিটার রাস্তা দেখলে মনে হচ্ছে এটি কাঁচা রাস্তা। তিনি বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শ শ যানবাহনে মানুষ আসা-যাওয়া করে। এতে চরম দুর্ভোগ বেড়েছে তাদের।
একই এলাকার শফিকুল ইসলাম বলেন, এই তিন কিলোমিটার রাস্তার বাইরে বাকি অংশেও যেখানে সেখানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে দুভোগ বাড়াচ্ছে। অধিকাংশ রাস্তায় ফুলে- ফেঁপে উঠে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় যথাযথ আইন মেনে কাজ করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। যেকারণে খুব দ্রুতই এটি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
রাজগঞ্জ এলাকার ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক মঞ্জুর হোসেন বলেন, রাত-দিন এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ মোটরসাইকেল চলাচল করে। রাতে আমরা জানটা হাতে নিয়ে চলাচল করি। তিনি বলেন, রাতের বেলায় সাতক্ষীরা এলাকা থেকে ছোট বড় পণ্যবোঝাই যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। বেহাল এ সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় প্রায় দুর্ঘটনার খবর শোনা যায়। তিনি দ্রুত এ সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩২ কিলোমিটার এ সড়কের অধিকাংশ অংশ আঞ্চলিক সড়ক। এটি সংস্কার করে থাকে এলজিইডি। এরমধ্যে কিছু অংশ আছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের। যেকারণে সংস্কার কাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও গ্রহণে কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়।
তবে এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, সড়কটি সংস্কারে ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হবে। ৩২ কিলোমিটারের এ সড়ক উন্নয়ন কাজে ইউকেয়ার নামে বিদেশি একটি প্রকল্প সহযোগিতা করছে বলে তিনি জানান।